অমিতের সভার ১ দিন আগে মঞ্চ লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ার অভিযোগ তৃনমূলের বিরুদ্ধে

কোচবিহার, ৬ ডিসেম্বরঃ বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা কর্মসূচির আগে অমিত শাহের সভামঞ্চকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে মারার অভিযোগ উঠল তৃনমূলের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ঝিনাইডাঙা এলাকায়৷ বিজেপির অভিযোগ, গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা ও অমিত শাহের সভা বানচাল করার জন্য বুধবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী আমাদের ঝিনাইডাঙার সভামঞ্চকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে মারে৷ পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়৷ সভামঞ্চের পাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি বোমা ছুঁড়ে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীরা৷ ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়৷ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ৷ এলাকায় আতঙ্ক কাটাতে শুরু হয়েছে পুলিশি টহল৷

জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে ওই বোমাবাজির ঘটনার পিছনে শাসকদলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা৷ তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের কোনও হামলা হতে পারে, জেনেই গত তিন রাত ধরে ওই সভাস্থল পাহারা দিচ্ছিলেন বিজেপি কর্মীরা৷ কিন্তু, বিজেপি কর্মীরা রাত করে তো তাদের সভাস্থল পাহারা দিচ্ছে, বুধবার রাতে হঠাৎ কেন এই হামলা? এর পিছনে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই কি মূল কারণ? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা৷ তাদের পালটা অভিযোগ, সভাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারে অশান্তি হতে পারে, এই আশঙ্কায় পুলিশের তরফেও কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি৷ অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিজেপির নেতা কর্মীরা সভার প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে৷

এদিন ওই ঘটনার পরিপেক্ষিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক কৈলাস বিজয় বর্গীও বলেন, “সারা পশ্চিমবঙ্গে আমাদের গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা শুরু হয়েছে। কোচবিহারে আমাদের এই গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা করার পারমিশন দেওয়া পুলিশ। ফাঁকা জায়গায় আমাদের সভা করতে হচ্ছে। সভায় মানুষ যেতে না পারে তার জন্য তারা বোমা ছুঁড়ছে, গুলি করছে, পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সরকার তামসার সরকার। তাই এখানে কোন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। তাই আমরা এই গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা করছি। ওরা যত আমাদের কর্মীদের ধমকাবে, তত আমাদের কর্মীরা গর্জে উঠবে। পুলিশ পারমিশন দেয়নি তো কি হয়েচ্ছে। আমরা আমাদের কর্মীদের নিয়ে এই গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা করব। কোন সমস্যা হলে আমাদের কর্মীরাই সামাল দেবে। পুলিশের কোন প্রয়োজন হবে না।” তিনি আরও বলেন, ‘‘কোচবিহার রাজবাড়ির কুলদেবতা মদনমোহনের আশীর্বাদ নিয়েই রথযাত্রার সূচনা হবে৷’’

যদিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করে কোচবিহার ১ নং ব্লকের কার্যকারী সভাপতি আজিজুল হক বলেন, “গতকাল রাতে এলাকার মানুষ বোমা, গুলির আওয়াজ শুনতে পায়। তাদের সভাস্থলের পাশে ক্যাম্প বানিয়ে পাহারা দিচ্ছে। সেখান কোন লোক যায় না। পুলিশ রাস্তায় পাহারা দিচ্ছে। বিজেপি কর্মীরা বুঝে গেছে যে তারা ৭ তারিখ অমিত শাহের সভায় লোকজন নিয়ে আসতে পারবে না। তাই তারা নিজেরাই বোমাবাজি করে তৃনমূলের ঘারে বদনাম করার চেষ্টা করচ্ছে।”