উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রেই অমিত শাহর রথযাত্রার সভা করবে বিজেপি

কোচবিহার, ২ ডিসেম্বরঃ শেষ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিধানসভা কেন্দ্রে গণতন্ত্র বাঁচাও রথযাত্রার সভা করতে চলেছে বিজেপি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, কোচবিহার-তুফানগঞ্জ রোডের ঝিনইডাঙ্গায় বিজেপির প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য চিনু কুণ্ডুর ১৬ বিঘা চাষের জমি ওই সভার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই চাষের জমির ধান কেটে ফেলা হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব মাঠ টিকে সভা করার  জন্য প্রস্তুত করতে তৎপর শুরু করেছে বিজেপির কোচবিহার জেলা সংগঠন।

বিজেপির ওই রথযাত্রা নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতায় নামেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি কার্যত হুমকির সুরে জানিয়ে দেন, কোচবিহারে একমাত্র মদনমোহন ঠাকুর রথে উঠবে। আর কেউ উঠতে পারবে না। এরপরেই সভার মাঠ পাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়ার কথা জানান কোচবিহারের বিজেপি নেতৃত্ব। এরপর বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য এসে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সভার জমি দেখে যান। তিনি গিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার পরেই রাজ্য নেতৃত্ব উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র নাটাবাড়ির অন্তর্গত ঝিনইডাঙ্গার ওই জমিতে সভা করার সিধান্ত নেয়। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “কোচবিহারে বিজেপি কোন অস্তিত্ব নেই। আর তাই হেরে যাওয়া এক পঞ্চায়েত প্রার্থীর চাষের জমি সভা করার জন্য ওদের বেছে নিতে হয়েছে। একটা মাঠের ব্যবস্থা করার ক্ষমতা ওদের হয় নি।”

৭ ডিসেম্বর কোচবিহার থেকে বিজেপির ওই গণতন্ত্র বাঁচাও রথযাত্রা শুরু হবে। মদনমোহন মন্দিরে পূজা দিয়ে বিজেপির সর্ব  ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ ওই রথযাত্রার সূচনা করবেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি শাসিত কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও এরাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কোচবিহার সদর থেকে বের হয়ে জেলার প্রায় প্রত্যেক মহকুমায় যাবে ওই রথ। দিনহাটা, মাথাভাঙা ও তুফানগঞ্জ রাত্রিবাসের পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রত্যেক এলাকাতেই তাঁদের সভা করার কথা রয়েছে। কাজেই বিজেপি হাই প্রোফাইল নেতৃত্বে ভরা ওই রথ নিয়ে প্রশাসনিক কর্তারাও যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে দিনহাটা, সিতাইয়ের মত রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রবন এলাকায় যাতে কোন অশান্তি না ছড়িয়ে পড়ে, তা নিয়ে অনেক প্রশাসনিক কর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করতে রাজী হন নি।