দিলীপের গাড়ির উপড়ে হামলা তৃণমূলের, আহত যুব মোর্চার রাজ্য সম্পাদক সহ অনেকে

কাজল রায়, মাথাভাঙাঃ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ শ্লোগান তুলল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। তৃণমূল কর্মীদের লাঠির আঘাতে তিনটি গাড়ির কাঁচও ভেঙ্গেছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য সম্পাদক বাপ্পা চ্যাটার্জী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাথাভাঙার পঞ্চানন মোড় এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ কারি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের দিলীপ ঘোষের কনভয়ের গাড়ির উপড়েও চরাও হতে দেখা যায়।

বাপ্পা চ্যাটার্জী বলেন, “পুলিশের নেতৃত্বে তৃণমূলী গুণ্ডারা আমাদের গাড়ির উপর হামলা হয়েছে। পুলিশের আধিকারিকদের নেতৃত্বে হয়েছে। আমরা রক্তাক্ত হয়েছি। কিন্তু তারপরেও আমরা ভয় পাচ্ছি না। গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা হবেই।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “ তৃণমূল এই এলাকাকে মুক্তাঞ্চল তৈরি করেছে। এর আগেও আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ হয়েছে। বাড়ী ভেঙেছে। পার্টি অফিস পুড়িয়েছে। আজকেও আমাদের উপড়ে আক্রমণ করেছে। আমার গাড়ি সহ তিনটি গাড়ি ভেঙেছে। আমাদের যুব মোর্চার কর্মী আহত হয়েছে। তার মাথা থেকে রক্ত পড়ছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা এটা জেনেই এসেছি। পুলিশ এসব করছে যাতে যাত্রা বন্ধ হয়।”

তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “ এই ঘটনা বিজেপির দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়ের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে হয়েছে। আমাদের দলের কেউ এর সাথে জড়িত নয়। আমরা এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করি।”

আগামী কাল কোচবিহার থেকে বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা শুরু হতে চলেছে। সেই যাত্রার উদ্বোধনী সভায় আসছেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। তিনি নাটাবাড়ী বিধানসভার ঝিনইডাঙ্গায় সভা করবেন বলে জানা গিয়েছে। ওই সভার প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা কোচবিহারে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এদের মধ্যে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব কোচবিহার থেকে শীতলখুচির খলিসামারির দিকে যাচ্ছিলেন। মনিষী পঞ্চানন বর্মার জন্ম ভিটায় শ্রদ্ধা জানানোর জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু রাস্তায় মাথাভাঙা পঞ্চানন মোড় এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা কালো পতাকা নিয়ে জমায়েত হয়ে থাকে। খবর পেয়ে মাথাভাঙা থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায়। সেখানে দিলীপ ঘোষের গাড়ি পৌঁছালে পুলিশের সামনেই কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো-ব্যাক’ শ্লোগান তোলে তৃণমূল কর্মীরা। লাঠি নিয়ে প্রত্যেকটি গাড়ির আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।