সারাদিনের সেরা খবর – ১৪ আগষ্ট ২০১৮

সারাদিনের বাছাই করা খবর
প্রতিদিন আমাদের ওয়েবসাইট ভিসিট করুন প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলি পাবার জন্য।

দিনহাটা গুলি কান্ডে চিকিৎসকদের সাথে গণ্ডগোলে জড়াল তৃণমূল কর্মীরা

মনিরুল হক, দিনহাটাঃ গোষ্ঠী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ দুই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসকদের সাথে গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ওই ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার পর চিকিৎসকরা হাসপাতালে কর্মবিরতি শুরু করে বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় বিধায়ক তথা রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ। তিনি জানান, “দুঃখ জনক ঘটনা। কোন কারন ছাড়াই এমন ঘটল হাসপাতালে। আমরা চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করছি, সাধারণ রোগীদের যাতে কোন সমস্যা না হয়, তার জন্য চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা চলছে।”

হাসপাতালের চিকিৎসক উজ্জল আচার্য বলেন, “ চিকিৎসকরা ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ জানানোর সিধান্ত নিয়েছে।” এদিন দিনহাটার গীতালদহে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠী মাদার ও যুবর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে দুজন গুলি বিদ্ধ হন। ওই দুই গুলিবিদ্ধ তৃণমূল কর্মীদের প্রথমে নিয়ে আসা হয় দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে আসার পরেই চিকিৎসকদের সাথে বচসা শুরু হয়। সেই বচসা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে পৌছায় বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের অনেকেই অভিযোগ করে জানান, রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এসেই একদল লোক উত্তেজিত অবস্থায় অক্সিজেন দেওয়ার জন্য দাবি জানাতে থাকে। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন রয়েছে এবং প্রাথমিক কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা ঠিক করতে সমস্যায় পরে যান চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত ভীর নিয়ন্ত্রণ করতে বললে তারা চিকিৎসকদের উপরেই চড়াও হন। মারধোর করা ছাড়াও কাঁচের বোতল ভেঙে চিকিৎসকদের আক্রমণ করতে এসে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মীরা ছিলেন। তারা দুজনকে আটক করেও ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের পাল্টা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তাঁদের সাথেই চিকিৎসকরা দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি তাঁদেরকে মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল বরাবর রোগীর সংখ্যা বেশী থাকে। সেখানে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু হলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে বলে ইতিমধ্যেই রোগী ও তাঁদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। তাই প্রায় সব মহল থেকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

ফের কমলো টাকার দাম

ওয়েব ডেস্ক, ১৪ আগস্টঃ ফের কমলো টাকার দাম। মার্কিন ডলারের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় টাকা ৭০ এর কোঠা ছাড়াল। ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়াল ৭০ টাকা ০৮ পয়সা। গতকাল পর্যন্ত এই দাম ছিল ৬৯.৮৫ টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের আর্থিক মন্দার প্রভাব অন্যদেশগুলির আর্থিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ডলারের দাম ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে কমছে টাকার দাম। বেশ কয়েকদিন ধরেই ক্রমাগত পড়ছিল টাকার দাম। গত শুক্রবার টাকার দাম ছিল ৬৮.৮৩ টাকা। সোমবার টাকার দাম ছিল ৬৯.৯৩ টাকা।

মাঝরাতে লুট হলো গৃহস্থের বাড়ি

কার্তিক গুহ, পশ্চিম মেদিনীপুর: মাঝরাতে লুট হলো গৃহস্থের বাড়ি । মেদিনীপুর শহরের সুযাগঞ্জ পালবাড়ি এর কাছে অভিষেক মাহাতো নামে এক গৃহ শিক্ষকের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে দুজন দুষ্কৃতী আলমারি ভেঙে চুরি করে। গৃহকর্তার অভিযোগ খোয়া গিয়েছে আনুমানিক তিন লক্ষ টাকার সোনার গহনা, নগদ কুড়ি হাজার টাকা সহ একটি মোবাইল ফোন। রাত্রি দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে মুখে কাপড় বেঁধে ঘরের ভেতরেই এক ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে চিৎকার শুরু করেন গৃহকর্তার পুত্রবধূ বনশ্রীদেব সিংহ ।

এর পরেই সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা । গৃহকর্তার অনুমান পরিচিত লোকেরাই এই চুরির পিছনে রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৌমেন খান। এলাকায় এত বড় চুরির ঘটনা না ঘটলেও ছোটখাটো চুরি প্রায় লেগেই থাকে, এই তথ্য স্বীকার করে নিয়েছেন কাউন্সিলর নিজেও। বিস্তর অভিযোগ থাকলেও সচেতনতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গাফিলতির দিকটা মেনে নিয়েছেন কাউন্সিলরও। ঘটনার পিছনে কে বা কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

ভুয়ো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তুফানগঞ্জে আটক এক নাবালিকা সহ ৪

গোপাল সরকার, তুফানগঞ্জঃ ভুয়ো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এক নাবালিকা সহ চার যুবককে আটক করল পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর বারোটা নাগাদ তুফানগঞ্জের থানা মোড় এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। তুফানগঞ্জ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ওই চার যুবকের নাম প্রসেনজিৎ সরকার, বিপুল দাস, বিজু দাস ও আশীষ বর্মন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে থানা মোড় এলাকায় গাড়ি চেকিং এর সময় একটি মারুতি গাড়িতে এক নাবালিকা মেয়ে সহ চার জনকে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। সে সময় তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের সাংবাদিক বলে পরিচয় দেয়। পুলিশ তাঁদের পরিচয় পত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেনি তারা। এরপর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তাঁদের গাড়িটিও আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

“অমিত শাহের নিজের বাবার সার্টিফিকেট আছে তো”?- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা, ১৪ আগস্টঃ অসমের নাগরিক পঞ্জির তালিকা নিয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবান্নে নাগরিক পঞ্জির তালিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অমিত শাহের নিজের বাবার সার্টিফিকেট আছে তো”?

এদিন অসমের নাগরিক পঞ্জির তালিকা থেকে বাদ যাওয়া একগুচ্ছ নাম সম্বলিত নথি পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তথ্য প্রমাণ সহ তিনি তুলে ধরেন ১৯৭১ সালের আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের নাম বাদ গিয়েছে নাগরিক পঞ্জির তালিকায়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অসমের শাসকদল এবং কেন্দ্রের শাসক বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই ধরনের নাগরিক পঞ্জির তালিকা তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন, “বিজেপি দাবি করেছে কোনও ভারতীয়র নাম বাদ যায়নি। বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলছে। পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৩ লক্ষ মুসলিম বাঙালির নাম বাদ গিয়েছে। ২৫ লক্ষ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ গিয়েছে। ৪০ লক্ষের মধ্যে বাংলাভাষী হলেন ৩৮ লক্ষ। তালিকা থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের নামও বাদ গিয়েছে। গায়ের জোরে অনেককেই অনুপ্রবেশকারী বানাচ্ছে বিজেপি। প্রতিবাদ করলেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে”।

নাকা চেকিং-এর সামনে পুলিশের চালককে গুলি কবে খুনের চেষ্টা দুষ্কৃতীদের

তুষার কান্তি বিশ্বাস, উত্তর দিনাজপুর: রায়গঞ্জের পর এ বার ইসলামপুরে পুলিশ নাকার অল্প দূরেই গুলিবিদ্ধ হলেন পুলিশের গাড়ির চালক। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে তাঁকে। এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে ইসলামপুরের পুলিশ।

সোমবার গভীর রাতে ইসলামপুর শহরের বাইরে পুলিশ চেক পোস্টের পাশেই গুলিতে জখম হন ইসলামপুর থানার অস্থায়ী গাড়িচালক গৌরাঙ্গ কর্মকার। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ওই চালককে প্রথমে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

গৌরাঙ্গর সঙ্গী শম্ভু সরকার জানান, একটি ফোন পেয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে অলিগঞ্জ পেট্রোল পাম্প লাগোয়া এলাকায় গিয়েছিলেন গৌরাঙ্গ। ফোর লেন এক্সপ্রেস হাইওয়েতে থাকা পুলিশ চেকপোস্টের পাশেই দাঁড়িয়ে কারও সাথে কথা বলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ইসলামপুর থানার পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলে ও পরে হাসপাতালে পৌঁছায়। প্রশ্ন উঠছে, গভীর রাতে ওই এলাকার কে ফোন করে গৌরাঙ্গকে ডেকেছিল ? ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশের চেকপোস্ট থাকলেও দুষ্কৃতীরা কী ভাবে পালিয়ে গেল? তোলাবাজদের সঙ্গে বখরার ভাগাভাগি নিয়ে বচসায় গুলি চলেনিতো ?

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রবিবার রাতেই রায়গঞ্জের রাসবিহারী মার্কেট এলাকায় গুলিতে জখম হন এক বধূ। পরের পর এমন সমাজবিরোধী কার্যকলাপে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা রায়গঞ্জ শহরে।

ঠিক সময়ে স্কুলে আসেননা শিক্ষক, বিদ্যালয়ে তালা ঝুলাল অভিবাবকরা

কার্ত্তিক গুহ,পশ্চিম মেদিনীপুরঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়নিত স্কুলে না আসায় স্কুলে তালা ঝুলালেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। ঘটনাটি ঘটেছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের মুগবসান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান দীপক রায় নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। আসলেও প্রায় প্রতিদিনেই দেরিতে আসেন তিনি। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতিরও অভিযোগ করছেন তারা। আজ বিদ্যালয় খোলার সময় থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন অভিভাবকরা। যদিও ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্বাধীনতা দিবস ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা কোচবিহার জেলায়, চলছে নাকা চেকিং

কোচবিহার, ১৪ আগস্টঃ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কোচবিহার শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা খতিয়ে দেখল পুলিশ। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে জেলা পুলিশ। বর্ডার সিল করার পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নাকা চেকিংইয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বাসের ভিতরেও চলছে পুলিশের নজরদারি। প্রাইভেট গাড়ির ডিকি খুলেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এদিন কোচবিহারের মিনি বাস স্ট্যান্ড এলাকা, গুঞ্জবাড়ি চৌপথি, রেল ঘুমটি এলাকা সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ নাকা চেকিং করে। বাস থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল সব চেকিং করা হয়। বাস যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে বলেন, “রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড ইত্যাদি এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাকা চেকিং চলছে। যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বর্ডার সিল করা হয়েছে। বি এস এফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পুরো জেলার নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়েছে। আশাকরি সকলে ভালোভাবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে পাবেন।”

নিজের ঘর থেকে উদ্ধার এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ, চাঞ্চল্য দাঁতনে

কার্ত্তিক গুহ, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ নিজের বাড়ির ঘর থেকে উদ্ধার হল এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে দাঁতনের সাস্তানগর গ্রামে। মঙ্গলবার সকালে বাসিন্দা পবন জানার (৩৩) ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। প্রতিবেশীরা দাঁতন থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে দেহটি খড়্গপুর হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে প্রায়শই অশান্তি লেগে থাকত। নেশা করতেন পবন। সোমবার রাতে বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। দুই সন্তান ও স্ত্রী তার দিদির বাড়িতে গিয়েছিল। পেশায় কাঠ মিস্ত্রি পবন জানা অশান্তি ও মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

সার্ভার হ্যাক করে ব্যাংক থেকে দু’দিনে গায়েব ৯১ কোটি টাকা

ওয়েব ডেস্ক, ১৪ আগস্টঃ সার্ভার হ্যাক করে ব্যাংক থেকে দু’দিনে গায়েব ৯১ কোটি টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে পুনের কসমস ব্যাংকে। দু’দিনে ব্যাংকের কয়েক হাজার ডেবিট কার্ড ক্লোন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, ব্যাংকে ম্যালওয়্যার অ্যাটাক হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ওই ঘটনা সমানে আসতেই ব্যাংক তাঁদের সার্ভার বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এটিএম, অনলাইন ট্রানজাকশনের পরিষেবাও।

জানা গিয়েছে, গত ১১ তারিখে ৭৬কোটি টাকা ওই ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর ১২ তারিখে সরানো হয়েছে ১৫কোটি টাকা। অবৈধভাবে ওই টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে, ব্যাংকের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে এতে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের কোনও ক্ষতি হয়নি। কোর ব্যাংকিং সিস্টেমে কোনও অ্যাটাক হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। ওই ঘটনায় ব্যাংকের তরফ থেকে থানায় একটি এফআইআর করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

৪ পঞ্চায়েত সমিতি, ৫০ গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন কোচবিহারে

রাজীব বর্মণ, কোচবিহারঃ এক মাত্র আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জয়ী হওয়ায় আপাতত বোর্ড গঠন হচ্ছে না কোচবিহার জেলা পরিষদে। শুধু তাই নয়, জেলার ১২ টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ৪ টিতে ও ১২৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে মাত্র ৫০ টিতে বোর্ড গঠন করা সম্ভব হবে বলে কোচবিহার জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গিয়েছে। প্রকাশ্যে না বলতে চাইলেও বোর্ড গঠন নিয়ে এমন বিড়ম্বনায় পড়ে রীতিমত বিব্রত তৃণমূল নেতারা।

অনেকের কথা, আগে জানলে তারাই প্রার্থী দিয়ে প্রত্যেক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যবস্থা করতেন। তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “ অনেক ক্ষেত্রেই দুই এক টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় বোর্ড গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মামলার রায় দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সমস্যা মিটে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।” পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৩ শতাংশ আসনে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী আসন গুলোতে বিরোধী প্রার্থী দিতে দেওয়া হয় নি বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। ওই মামালার নিস্পত্তি আজ না হওয়ায় বহু গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে যেখানে সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, সেখানে বোর্ড গঠন করার জন্য ১০ আগস্ট রাজ্য পঞ্চায়েত দফতর থেকে একটি নোটিফিকেশন জারি করা হয়। ১৬ আগস্ট থেকে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। কোচবিহার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলা পরিষদের ২৭ নম্বর আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মীর হুমায়ূন কবীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ জয়ী হয়ে থাকলে সেখানে বোর্ড গঠন করা যাবে। তাই কোচবিহার জেলা পরিষদে বোর্ড গঠন হচ্ছে না।

অন্যদিকে কোচবিহার জেলার চারটি পঞ্চায়েত সমিতি হলদিবাড়ি, মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙা ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে সমস্ত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় সেখানে বোর্ড গঠন হতে চলেছে। এরমধ্যে হলদিবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির ১৬ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রত্যকেটি আসন ছনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতিতে ২১ টি আসনের মধ্যে ১৭ টিতে তৃণমূল কংগ্রেস, ২ টিতে বিজেপি ও ২ টি আসন বাম প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। মাথাভাঙা ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে ৩০ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২৮ ও বিজেপি ২ আসনে জয়ী হয়। মাথাভাঙা ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে ৩০ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২৫ টি ও বিজেপি ৫ টিতে জয়ী হয়। ওই চার পঞ্চায়েত সমিতিতে বোর্ড গঠন হওয়ায় কার্যত হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন সেখানকার তৃণমূল নেতারা।

মাথাভাঙার এক তৃণমূল নেতার কথায়, “না হয় এক দুটি আসনে বিরোধীরা জয়ী হয়েছে। কিন্তু শেষ অব্দি আমরা বোর্ড গঠন করতে পারছি। এটাই বড় কথা।” তবে জেলা পরিষদ, বেশীর ভাগ পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েত গুলোতে প্রশাসক বসে যাওয়ায় উন্নয়নের কাজে টাকা বরাদ্দ হওয়া সমস্যা হয়ে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। সেই আশঙ্কা কাটাতে রাজ্য এখন কোন পথে এগোবে এখন সেটাই দেখার।