লোকসভার মুখে মহারাজ পন্থী গ্রেটারদের সাথে বিজেপি, তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক

ছাগলিয়া(অসম), ১৯ ফেব্রুয়ারিঃ লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের বিজেপির সাথে থাকার বার্তা দিল মহারাজ পন্থী গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন। আজ কোচবিহার লাগোয়া অসমের ছাগলিয়া সংলগ্ন ভাই বাজার এলাকায় চিলা রায়ের ৫০৯ জন্মোৎসব পালন করে পৃথক রাজ্যের দাবিদার ওই সংগঠন। সেখানে অসমের গোলোকগঞ্জ এলাকার বিজেপি বিধায়ক অশ্বনী রায় সরকার ছাড়াও বিজেপির কোচবিহার জেলার প্রাক্তন সভাপতি হেম চন্দ্র বর্মণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন গ্রেটারদের ওই সংগঠন প্রধান অনন্ত রায় সহ তাঁদের বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। যিনি নিজের কর্মী সমর্থকদের কাছে মহারাজ নামে পরিচিত। এদিন ওই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির কোচবিহার জেলা প্রাক্তন সভাপতি হেমচন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমাদের রাজ্যে দীর্ঘদিন থেকে যে অপশাসন চলছে। সেই অপশাসনকে সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। তা হলেই কোচবিহার বাসীর মনে ইচ্ছা পূরণ হবে।”

Top News

এদিন ওই মঞ্চ থেকে গ্রেটার নেতারা জানান, এদিন তাঁদের ওই সভায় এসএস আলুওয়ালিয়া আসার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারনে আসতে পারেন নি। তিনি আসলে কেন্দ্রের সাথে তাঁদের বেশ কিছু দাবীদাবার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করতেন। এরমধ্যে সেনাবাহিনীতে কোচবিহারের জন্য আলাদা করে রেজিমেন্ট করার কথা তুলে ধরতেন বলে ওই পক্ষ থেকে জানানো হয়। শুধু তাই নয়, ছোট রাজ্যের পক্ষে থাকা বিজেপি রাজ্যে ও কেন্দ্রে এক সাথে ক্ষমতায় থাকলে তাঁদের কোচবিহার রাজ্যের দাবিও পূরণ হবে বলে অনেক গ্রেটার নেতাই আশা করে থাকেন।

ভারত ভুক্তি চুক্তি অনুসারে কোচবিহারকে রাজ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবীতে এক সময় কোচবিহারে গ্রেটার আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে ওই সংগঠন কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে মহারাজ অনন্ত রায় নেতৃত্বাধীন ও রাজবংশী উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান বংশীবদন বর্মণ নেতৃত্বাধীন দুটি পৃথক সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত লোকসভা উপ নির্বাচন ও বিধানসভা নির্বাচনে মহারাজ গোষ্ঠী সরাসরি বিজেপিকে সমর্থন জানিয়েছিল। পরবর্তীতে নারায়ণী সেনা নামে একটি সংগঠন তৈরি করতে গিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে অনন্ত মহারাজ কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের বড়গিলার এলাকার বাড়িতে তাঁকে আর সেভাবে দেখা যায় নি। এদিন কোচবিহার লাগোয়া অসমের ছাগলিয়া ভাই বাজার এলাকায় মহারাজ গোষ্ঠীর আয়োজনে বীর সেনাপতি চিলা রায়ের ৫০৯ তম জন্মদিন পালিত অনুষ্ঠানে ফের প্রাকশ্যে আসেন অনন্ত রায়। লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের স্থানীয় ভোট বিজেপির বাক্সে নিয়ে আসতেই তাঁর ফের লোক সমক্ষে আসা বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। তবে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অবশ্য অনন্ত রায়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, “এই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন নিয়ে বিজেপি আগেও চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আসলে বিছিন্নতার আওয়াজ তুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোচবিহারের মানুষ কোনদিন প্রশ্রয় দেয় নি। আগামীতেও দেবে না।”