এনআরসির নামে অসমে ২২ লক্ষ হিন্দু, ২৩ লক্ষ মুসলমান নাম বাদঃ মমতা 

কোচবিহার, ৪ এপ্রিলঃ নাগরিকপঞ্জি ইস্যুকে হাতিয়ার করে ফের একবার বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় নির্বাচনী জনসভার শুরু থেকেই বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা। এদিন জনসভায় মমতা বলেন,“সবাইকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বিজেপি। দাঙ্গাবাজ বিজেপির সারা শরীরে মানুষ খুনের রক্ত লেগে আছে।” সভার শুরুতেই নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “অসমে ২২ লক্ষ হিন্দুর নাম বাদ দিয়েছে। ২৩ লক্ষ মুসলমানের নাম বাদ দিয়েছে। জীবনে বাংলায় এনআরসি করতে দেব না।” মোদীকে উদ্দেশ্য করে মমতা বলেন, “ যার সারা শরীরে রক্তের দাগ, সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছে এটা লজ্জার। এখন মানুষই বলছে চৌকিদার চোর হ্যায়।”

Top News

এদিনেরে জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমত পরিসংখ্যান তুলে ধরে মোদীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েও কটাক্ষ করেন। এই বিষয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “ দুকোটি লোকের চাকরি চলে গেছে। ১২০০০ কৃষক আত্মহত্যা করেছে, গোরক্ষকের নাম করে মানুষ মারছে। কী কাজ করেছেন এগুলো ছাড়া? ”

বিগত ৫ বছরে রাজবংশীদের কথা মোদী সরকার ভাবেনি বলেও এদিন সোচ্চার হন তৃণমূল নেত্রী। এখন ভোট আসতেই মোদীর মুখে রাজবংশীদের কথা শোনা যাচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি। এদিন মাথাভাঙ্গার সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকারের আমলেই রাজবংশী অ্যাকাডেমি তৈরি হয়েছে। যথাযোগ্য মর্যাদা পেয়েছে রাজবংশী ও কামতাপুরী ভাষা।পঞ্চানন বর্মা ইউনিভার্সিটি তৈরি করা হয়েছে।

ছিটমহল সমস্যার সমাধান তাঁর আমলেই হয়েছে বলেও এদিনের সভায় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিটমহলের উন্নয়নে তাঁর সরকার ১১০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বলেন,“ছিটমহলবাসী জমির অধিকার পেয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি হওয়ায় ভারতবাসী হওয়ার বৈধতা পেয়েছে ওরা। অনেক লড়াই, অনেক আন্দোলন করে স্বীকৃতি পেয়েছে।” কিন্তু, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বক্তব্যে ভোটের আগে তাঁরা আবার অশনিসংকেত দেখছেন বলে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, আলিপুরদুয়ারের সভায় অমিত শাহ বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে বাংলায় এনআরসি হবে। তাঁর এই বক্তব্য ‘ছিটমহলবাসীর’ মধ্যে আবার আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। এর পাশাপাশি পাহাড় সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য বিজেপির দিকেই আঙুল তোলেন তিনি। সেই সঙ্গে ১৫ লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেটা না দিতে পারার জন্য বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী।