মুসলিম ব্যক্তিকে গোমাংস বিক্রির অভিযোগে নির্যাতন ও শুয়োরের মাংস খেতে বাধ্য করায় উত্তাল অসম

অসম, ৯ এপ্রিলঃ ফের একবার গোমাংস বিক্রেতাকে নিগ্রহ করার অভিযোগ উত্তাল অসম৷ওই অভিযোগ ঘিরে উত্তাল অসমের বিশ্বনাথ চারিয়ালি এলাকা৷ গোমাংস বিক্রি করার অভিযোগে ৬৮ বছর বয়েসী ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা৷ এমনকি তাঁকে জোর করে শূকরের মাংসও খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ৷

Top News

ঘটনাটি ঘটেছে ৭ এপ্রিল অসমের বিশ্বনাথ চারিয়ালি বাজার এলাকা৷ ওই গোটা ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়৷ যদিও ওই ভিডিও ও ছবি সত্যতা যাচাই করে নি খবরিয়া ২৪। ওই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, একজন মুসলিম বয়স্ক ব্যক্তি বাজারের মধ্যে জল কাদায় মাখামাখি হয়ে বসে রয়েছেন, তাঁকে ঘিরে রয়েছে উত্তেজিত জনতা৷ তিনি বাজারের মধ্যে গোমাংস বিক্রি করছিলেন বলে অনুমান করে জনতা৷ তারপরেই শুরু হয় নিগ্রহ৷

উত্তেজিত জনতা তাঁকে চিৎকার করে জিজ্ঞাসা করছে নাগরিকত্ব রয়েছে কিনা। এবং ওই বয়স্ক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয় এনআরসি সার্টিফিকেট তাঁর রয়েছে কিনা, নাকি তিনি বাংলাদেশী৷ আপনার কি গরুর বিক্রি করার লাইসেন্স আছে ? পরে ওই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে স্থানীয় পুলিশ। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত ওই ব্যক্তির নাম সওকত আলি। সে গত ৩৫ বছর ধরে ওই বাজারের ব্যবসায়ী৷ সেখানেই তিনি গোমাংস বিক্রি করেন৷ তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যখন ওই ব্যবসায়ীকে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করা হয়৷ মারধরের ঘটনায় বেশ আহত হয়েছে ওই ব্যবসায়ী৷ তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে পরে ভর্তি করা হয়৷ শুধু শওকত আলিই নয়, ওই বাজারের ম্যানেজারকেও নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ৷ ওই ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ৷

বিশ্বনাথ জেলার পুলিশ প্রধান রাকেশ রুশান বলেন, এটি “সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বিষয় নয়। দুর্বৃত্তরা কেবল তাকেই নয়, বরং একটি ভিন্ন সম্প্রদায়ের অন্য ব্যক্তির সাথেও খারাপ ব্যবহার করে।”

এদিকে ওই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরেই সরব হয়েছেন এআইএমআইএম সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াসি৷ ট্যুইট করে গোটা ঘটনার নিন্দা করেন।