শ্যালিকার ৩ বছরের মেয়েকে বলি দেওয়ার চেষ্টা, গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যরা

ওয়েব ডেস্ক, ৭ জুলাইঃ তিন বছরের এক শিশু কন্যাকে বলি দেওয়ার আয়জন করা হয় মা-বাবার সামনেই। এমনি এক চাঞ্চল্যকর হাড় হিম করা ঘটনা ঘটেছে অসমের উদালগুড়ি জেলার কুলসিপাড়ার এলাকায়।

Top News

এই সময়ে দাঁড়িয়ে এমন কুসংস্কার দেখতে হলে, বিশ্বাস মানুষকে আরও নিকষ কালো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। সমাজ এগিয়ে গেলেও আমাদের মানসিকতা এখনও কতটা পিছিয়ে। যেই যুগে মহাকাশ পাড়ি দিচ্ছে মানুষ। কিন্তু এখনও সমাজের বেশ কিছু অংশে অন্ধকার কুসংস্কার বহাল তবিয়তে মাথা চাড়া দিচ্ছে, তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল অসম।

অসম পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বঘোষিত এক সাধু রমেশ সাহারিয়ার নির্দেশে এক বিজ্ঞান শিক্ষক ও তার পরিবারের মানুষজন তিন বছরের এক শিশুকন্যাকে বলি দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। এমন অমানবিক ঘটনা জানাজানি হতেই হই চই পরে যায় গোটা এলাকায়৷ কি করে মানুষ রুপি পিচাশ দের হাত থেকে ফুলের মত শিশু টিকে বাঁচানো যায় সেই চেষ্টা করে স্থানীয়রা। কিন্তু কোন ভাবেই ওই পরিবারের লোক জনকে বঝাতে পারছিল না স্থানীয়রা। পুলিশ আরও জনান, ওই পরিবারের সকলেই নাকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের দিকে তেরে আসছিল। বিজ্ঞান শিক্ষক জ্যাকব সাহারিয়ার বাড়ির এক মন্দিরেই এই ন্যক্করজনক কার্যকলাপের আয়োজন করা হয়েছিল৷

এর পরে কোন উপায় না দেখে স্থানীয়রা পুলিশ কে খবর দেয়। খবর পেয়ে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও প্যারামিলিটারি ফোর্সও৷ পুলিশ এসেও চমকে ওঠে ওই ভয়াভয় দৃশ দেখে। পরিবারের সকলে উলঙ্গ হয়ে অংশ নিয়েছিল সেই পুজোয়৷ ওই শিশুটি হল-জ্যাকবের শ্যালিকার মেয়ে। সবথেকে তাজ্জব বিষয়টি হল এই বলি অনুষ্ঠানে হাজির ছিল শিশুটির বাবা ও মাও ৷ আর তাদের সম্মতিতেই নাকি গোটা ঘটনা ঘটছিল৷ পুলিশ এসেও তাদের থামতে পারছিল না। পুলিশ আসতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় পরিবারের লোক জন। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা পর পরিবারে সদস্য দের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ও শিশুটিকেও সুস্থ ভাবে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কি কারনে এই পুজার আয়োজন করা হয়েছিল সেই সমস্ত বিশয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।