বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মৌন অবস্থানে বিজেপি শিক্ষক সেল

কলকাতা, ১৫ মেঃ মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড শো-কে কেন্দ্র করে টিএমসিপি বনাম বিজেপি সংঘর্ষে উতপ্ত হয় কলকাতা৷ সংঘর্ষে বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে৷ বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিজেপি ও তৃনমূল। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি সমর্থকরাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে। কলেজে যাবতীয় অশান্তি ছড়ানো, বাইকে আগুন ধরানো, ভাঙচুর, যাবতীয় কাণ্ড ঘটিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এসবই তৃণমূলের কাজ। ভোটে হার নিশ্চিত যেনে শেষ দফার আগে মানুষের সহানুভূতি কুড়োতে নিজেরাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে। এখন বিজেপিকে বদনাম করার চক্রান্ত চলছে। নিজেদের ওই দাবির সমর্থনে ভিডিও পোস্ট করেছে গেরুয়া শিবির। পাল্টা ভিডিও দেখিয়েছে তৃনমূলও।

Top News

এবার গতকাল বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে আজ কলকাতার ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মৌন অবস্থান করল ভারতীয় জনতা পার্টির শিক্ষক সংগঠন বিজেপি শিক্ষক সেল। ওই অবস্থান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি লকেট চ্যাটার্জী।

এদিন লকেট চ্যাটার্জী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূলী গুন্ডারা সুপরিকল্পিতভাবে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে যে কক্ষে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ছিল, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনা হোক এবং দোষী যারাই হোক তাদের চরমতম শাস্তি দেওয়া হোক”।

বিজেপি শিক্ষক সেলের রাজ্য কনভেনার দীপল বিশ্বাস বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির বদনাম করার জন্য এই ফন্দি করেছিল, যাতে ভোট বাক্সে বাঙালীর সেন্টিমেন্টে আঘাত দিয়ে সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিকল্পনা ধরে ফেলেছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে রাজনীতি করার জবাব উনি আগামী ১৯শে মের ভোটে পেয়ে যাবেন”।

বিজেপি শিক্ষক সেলের প্রাথমিক শাখার রাজ্য কো-ইনচার্জ সব্যসাচী ঘোষ বলেন, “বাঙালী হিসাবে নিজেদের পরিচয় দিতে আজ লজ্জা লাগছে। যে মহাপুরুষের বর্ণপরিচয় পড়ে আমরা শিক্ষা লাভ করলাম, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তৃণমূল সেই মহাপুরুষকেও ছাড়ল না। আমরা সমস্ত শিক্ষক তৃণমূল কংগ্রেসের এই চূড়ান্ত নোংরামির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি”।