রাজনৈতিক রং না দেখে গ্রেফতারের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী, গ্রেপ্তার ৫ জন

ওয়েব ডেস্ক, ২১ জুনঃ গত প্রায় দেড় মাস ধরে রণক্ষেত্র হয়ে রয়েছে ভাটপাড়া। যা চরমে পৌঁছয় বৃহস্পতিবার। সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ৩জনের। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার পদ থেকে তন্ময় রায়চৌধুরীকে সরিয়ে আনা হয় মনোজ ভার্মাকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভাটপাড়াকে শান্ত করতে রাজনৈতিক রং না দেখে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Top News

আর এই নির্দেশের পরপরই ভাটপাড়া থেকে এখনই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যা পরিস্থিতি তাতে রাতের মধ্যে সেই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তবে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক এই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে তাঁদের অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। বন্ধ থাকছে দোকান-পাট।এই পরিস্থিতির কবে পরিবর্তন হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে আছেন নির্ঝঞ্ঝাট সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার ভাটপাড়ায় নতুন থানার উদ্বোধনের আগেই সকাল থেকেই বোমা-গুলির লড়াইয়ে অশান্ত হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা। নবান্ন সূত্রে খবর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সমাজবিরোধীদের তাণ্ডবের কথা জানতে পেরে দুপুরেই মুখ্যসচিব মলয় দে,স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র, এডিজি(আইনশৃঙ্খলা)জ্ঞানবন্ত সিংয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভাটপাড়ায় কেন অশান্তি বন্ধ করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ডিজির কাছে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরিই জানতে চান, ‘কেন ভাটপাড়ায় অচলাবস্থা দূর করা যাচ্ছে না।’ এরপরেই প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের শান্তি ফেরানোর জন্য তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি। বেআইনিভাবে মজুত অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘ভাটপাড়ায় অশান্তির পিছনে বহিরাগতরা রয়েছে। স্থানীয় সমাজবিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা অশান্তি পাকাচ্ছে। ভাটপাড়া ও জগদ্দলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে আইজি(দক্ষিণবঙ্গ) সঞ্জয় সিং’কে।’