রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানোর নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

কলকাতা, ১৫ মেঃ প্রতিহিংসা পরায়ণ মনোভাবের জেরে নজিরবিহীনভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। আপাতত তাঁকে কোনও দায়িত্বেই রাখা হয়নি। মুখ্যসচিব মলয় দে অত্রির কাজ দেখবেন বলে জানিয়েছে কমিশন। বুধবার সন্ধেবেলায় মুখ্যসচিবকে এক চিঠি দিয়ে একথা জানিয়েছে কমিশন।

Top News

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অসন্তোষের কথা চিঠি লিখে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবকে জানিয়েছিলেন অত্রি। কমিশন এদিন যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে সেই চিঠির কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করতে স্বরাষ্ট্রসচিব সিইও’কে চাপ দিয়েছেন। সেই কারণেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, তাঁকে ভোটের কোনও কাজেও রাখা হবে না বলেই জানিয়েছে কমিশন।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত মঙ্গলবার অমিত শাহের রোড শো ঘিরে যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তার জের বুধবার সারাদিন ধরেই চলেছে। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে অত্রি কিংবা রাজীবের কী যোগ তা কারও কাছেই স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার ব্যর্থতার দায় যদি কারও থাকে, তাহলে তা কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমারের। কিন্তু আরএসএস ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই তাঁকে পদ থেকে সরানো হল না।

যদিও, অত্রির বদলি নিয়ে গত মঙ্গলবারের ঘটনা নিয়ে কমিশনের নির্দেশিকায় কিছু উল্লেখ নেই। সেখানে স্পষ্টই বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু অত্রি ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে একটি চিঠি লেখা ছাড়া আর কী ভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করেনি কমিশন। ফলে এটা স্পষ্ট যে অত্রি ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই পদ থেকে সরানো হয়েছে।

শুধু অত্রিই নয় এডিজি, সিআইডি রাজীব কুমারকেও কেন রাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হল, তার কোনও স্পষ্ট কারণ কমিশন দিতে পারেনি। সরাসরি নির্বাচনের কাজে যোগ না থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে পদ থেকে সরানো হল, তা স্পষ্ট নয়। এর থেকেই পরিষ্কার, নিজেদের প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতা চরিতার্থ করতেই রাজ্য সরকারের শীর্ষপদে থাকা এই দুই আমলাকে সরানোর সিদ্ধান্ত। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সব মহল থেকেই প্রশ্ন উঠেছে।