শিলিগুড়ি মহিলা কলেজে ছাত্রী ও বহিরাগতদের মধ্যে চুলোচুলি, দেখুন সেই ভিডিও

সৌরভ রায়, শিলিগুড়িঃ শিলিগুড়ি মহিলা কলেজের ছাত্রী এবং বহিরাগতদের মধ্যে ব্যপক হাতাহাতির ঘটনায় প্রবল উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ি মহিলা কলেজে। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিলিগুড়ি থানার কয়েকটি পুলিশ ভ্যান। দুই পক্ষেরই একজন করে আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে একজনকে। জানা গিয়েছে, গতকাল শহরের শিলিগুড়ি কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণমূল ভট্টাচার্য এর উপস্থিতিতে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। আর সেই মিছিলে টিএমসিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তারা জোর করে প্রায় ২০০ জন ছাত্রীদের মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওই কলেজ থেকে। যদিও এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। আর এই অভিযোগ তুলে গতকাল বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহিলা কলেজের টিচার ইনচার্জ স্বাতী ব্যানার্জিকে একটি স্মারকলিপি দেয় এসএফআইয়ের সদস্য অনিন্দিতা চক্রবর্তী এবং অন্যান্য সদস্যারা। গতকালের এই ঘটনা ভিত্তিহীন বলে দাবী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা।

Top News

আর এনিয়েই আজ শুক্রবার উত্তাল হয়ে ওঠে শিলিগুড়ি মহিলা কলেজ। কলেজ চত্বরে পৌঁছায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দার্জিলিং জেলা সভাপতি নির্ণয় রায় সহ প্রচুর সদস্য। এক দুই কথায় শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। কলেজের ভেতরে আটকে রাখা হয় এসএফআই সদস্যা অনিন্দিতা চক্রবর্তী নামে ওই কলেজেরই এক ছাত্রীকে। এরপর অনিন্দিতাকে সুস্থভাবে কলেজ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কলেজে এসে হাজির হন তার বাবা অজয় চক্রবর্তী, দিদি অয়ন্তিকা চক্রবর্তী এবং তার মা। অভিযোগ, অনিন্দিতার পরিবারের লোকদের কলেজে ঢুকতে বাধা দেয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। প্রথমে ধাক্কাধাক্কি, তারপর হাতাহাতিতে পরিণতি পায় দুপক্ষের এই কোন্দল।

ছাত্রীর বাবা অজয় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ওই কলেজেরই এক ছাত্রীকে মারধরও করেছন। গোটা ঘটনায় ব্যপক উত্তেজনা ছড়াতেই কলেজ চত্বরে হাজির হয় শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। ওই ছাত্রীর বাবা অর্থাৎ সিপিএম নেতা অজয় চক্রবর্তী কে আটক করে থানায় নিয়ে যায় শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। এরপর অনিন্দিতাকে পুলিশই গার্ড দিয়ে বাড়ি অবধি পৌঁছে দিয়ে আসে।

এসএফআই নেত্রী অনিন্দিতা চক্রবর্তীর দিদি অয়ন্তিকা চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, গতকাল টিএমসিপির মিছিলে জোর করে কলেজ ছাত্রীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে একটি ডেপুটেশন দিয়েছিল তার বোন। সেই কারণেই তাকে আটকে রাখা হয়েছে কলেজের ভেতরে। আর তাকে ছাড়াতে কলেজ এর ভেতরে অভিভাবক হিসেবে কলেজের ভিতরে প্রবেশ করতে চান তিনি। তখনই তাকে বাধা দেয় টিএমসিপির সদস্যরা। তিনি আরো বলেন, এই নিয়েই তাকে মারধোর করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা।