সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মৃত গ্রামবাসী, উত্তেজনা

শ্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনাঃ ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হল এক গ্রামবাসীর। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার ভারত ও বাংলাদেশ তারালী সীমান্তে। ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

Top News

জানা গিয়েছে, রবিবার ভোররাতে বছর ৩২ এর যুবক মোস্তফা গাজী, চাষ করার জন্য মাঠে যাচ্ছিল। সেই সময় পাচারকারী সন্দেহে ১৭৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি গিয়ে লাগে তার বুকে। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে মুস্তফা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্বরূপ নগর শাড়াফুল গ্রামীণ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে স্থানাতরিত করা হয়। রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয় মোস্তফার। এই মৃত্যুর খবর গ্রামের পৌঁছাতেই, পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষোভ দেখায়।

বিএসএফ এর তরফ থেকে জানানো হয় মোস্তফা পাচারের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু পরিবারের দাবি সকালবেলা মোস্তফা মাঠে চাষ করার কাজে যাচ্ছিল। সেই সময় সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী গুলি করে মেরে দিয়েছে মোস্তফাকে। মুস্তফার স্ত্রী আজিরা বিবি ও পরিবার পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। ঘটনার জেরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে চাপানউতর শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যে উত্তর ২৪পরগনা বনগাঁ ও বসিরহাট সীমান্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। মোস্তফার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করছে মৃত মোস্তফার পরিবার। কি কারণে গুলি চালিয়েছে বিএসএফ? এর পিছনে অন্য কিছু কারণ আছে কিনা? সত্যি পাচারকারী কিনা? পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্বরূপনগর থানার পুলিশ।