বিজেপির লালবাজার অভিযানে চূড়ান্ত অশান্তির আশঙ্কা পুলিশের

ওয়েব ডেস্ক, ১২ জুনঃ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে বিজেপির ডাকা লালবাজার অভিযান কর্মসূচি। আজ বুধবার বিজেপির ডাকা ওই লালবাজার অভিযান কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা করছে পুলিশ। কার্যত অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের কর্মসূচি ঘিরে অশান্তি রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন লালবাজারের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। অপ্রীতিকর ঘটনার মোকাবিলায় লালবাজার ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ কর্মীকে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। এছাড়াও বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Top News

যদিও বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পুলিশের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন,‘লালবাজার অভিযান শান্তিপূর্ণ থাকবে কি না, তা পুলিশের উপরেই নির্ভর করছে। বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা হলে ফল ভালো হবে না।’

রাজ্যে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা এবং সন্দেশখালিতে দলের দুই কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ লালবাজার অভিযানের ডাক দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। বেলা বারোটার সময়ে মধ্য কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে লালবাজারের উদ্দেশে মিছিল শুরু হবে। নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট হয়ে কলকাতা পুলিশের সদর দফতরের দিকে এগোবে মিছিল। লোকসভায় রাজ্য থেকে নির্বাচিত ১৮ জন দলীয় সাংসদই আজকের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকছেন।

পাশাপাশি কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ বিজেপির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতারও কর্মসূচিতে থাকার কথা রয়েছে। লালবাজার অভিযান কর্মসূচিতে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য প্রায় লক্ষাধিক জমায়েতের পরিকল্পনা নিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতারা। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও নদিয়া থেকেই মূলত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আসা হচ্ছে। গেরুয়া বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গোটা মিছিলের বিভিন্ন অংশে দলীয় সাংসদ ও রাজ্য নেতাদের রাখা হচ্ছে।

যদিও গেরুয়া শিবিরের আজকের কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা করছেন লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকরা। বছর দুয়েক আগে বিজেপির লালবাজার অভিযান ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মধ্য কলকাতা। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে বোমাবাজির মতো অভিযোগ উঠেছিল গেরুয়া সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ফলে এবার আগেভাগেই সতর্ক পুলিশ কর্তারা।

 ইতিমধ্যেই লালবাজারে জমা পড়া গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, পুলিশকে ভ্যাবাচাকা খাইয়ে দিতে গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ হয়ে লালবাজারের দিকে এগোতে পারেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। তাছাড়া ইডেন হসপিটাল রোড ধরে লালবাজারের পিছনের রাস্তা দিয়েও কলকাতা পুলিশের সদর দফতরের সামনে আচমকা জড়ো হতে পারেন তারা। গোয়েন্দা রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতেই লালবাজার ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রথমে থাকবে লাঠিধারী পুলিশ, তার পিছনে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যারিকেড, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান। সকাল ১১টা থেকে লালবাজারে ঢোকার সব রাস্তা বন্ধ করার পাশাপাশি লালবাজারে পৌঁছানো যায় এমন ২০টি গলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকছেন কলকাতা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা।