জোর করে জয় শ্রীরাম বলানো কেন: অমর্ত্য সেন

ওয়েব ডেস্ক, ৬ জুলাইঃ ধর্মীয় স্লোগান ও সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে ফের সরব হয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন৷ শুক্রবার অমর্ত্য সেন গেরুয়া শিবিরকে বিঁধলেন জয় শ্রীরাম নিয়ে। তার বিরোধিতা জয় শ্রীরাম বলানো নিয়ে।  অমর্ত্য সেন এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গান্ধীভবনে আয়োজিত কলকাতা আফটার ইন্ডিপেন্ডেন্স, এ পারসোনাল মেমোয়ার শীর্ষক একটি বক্তৃতায় বলেন, নির্দেশ না মানলেই এই দেশে মারধোর করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবিধানে সমস্ত ধর্মাচরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিত ভারতীয় সংবিধানে সমস্ত ধর্মাচরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের মানবিকার নিয়ে সরব হওয়া উচিত।

Top News

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘মা দুর্গা শব্দবন্ধটি বাঙালি জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে যেমন ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, জয় শ্রীরাম কিন্তু তা নয়৷ জয় শ্রীরাম স্লোগান বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না৷ ইদানিং দেখছি রাম নবমী বেশ জনপ্রিয় হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে৷ আগে কখনও শুনিনি৷’

দেশের ধর্মীয় হিংসা ও অসহিষ্ণুতা নিয়ে এর আগেও একাধিক বার মুখ খুলেছেন অমর্ত্য সেন৷ লোকসভা ভোটের দেশে গেরুয়া ব্রিগেড যখন রাম মন্দির তৈরি নিয়ে হাওয়া গরম করছিল, তখন ধর্মীয় ইস্যুতে মাতামাতিতে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ৷ তাঁর মত ছিল, বেকারত্ব, দেশের আর্থিক বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি থেকে নজর ঘোরাতেই রাম মন্দির নিয়ে মাতামাতি করছে বিজেপি সরকার৷

অমর্ত্য সেন বলেছিলেন, ‘একজন সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে আমার মনে হয়, বেকারত্ব, আর্থিক বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি থেকে নজর ঘোরাতেই রাম মন্দির, গোরক্ষা, শবরীমালা-সহ ধর্মীয় বিষয় গুলি নিয়ে মাতামাতি করা হচ্ছে৷ আর্থিক বৃদ্ধির হার যদিও বেশি, কিন্তু‌ তাতে গরিবের জীবনযাত্রার মানোন্নতি হয়নি৷ ঠিক এই জায়গাতেই, গোরক্ষা বা মন্দিরে নজর ঘোরানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে৷’

বোঝাই যাচ্ছে হালের ঝাড়খণ্ড বা কলকাতা, কোনও ঘটনাই অমর্ত্য সেনের নজর এড়ায়নি। ঝাড়খণ্ডে তাবরেজ আনসারিকে চোর অপবাদে আঠারো ঘণ্টা ধরে মারা হয়, তাঁকে জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্যও করা হয়, হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্য দিকে খাস কলকাতায় শাহরুফ হালদার নামক এক মাদ্রাসা শিক্ষককে ট্রেনে মারধর করে একদল লোক। তাঁকেও বারবার জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়। অমর্ত্য সেন নিন্দা করছেন এই বাড়তে থাকা হিংসা ও অসহিষ্ণুতার বাতাবরণকেই।