বাম-তৃণমূল-বিজেপি, উমায় কাক ভোট দিবে-মুই জানং, কিন্তুক হামরা?

(বাম- তৃণমূলের পর বাংলায় বিজেপির উত্থান ঘটছে। আর তা নিয়েই একটি ভিন্নধর্মী লেখা। বাস্তবিকতার সাথে মিল রেখে। আবো, জয়নাল ও উজ্জল চরিত্র গুলো আপনার চোখে ভাসবে, অনুভব করতে পারবেন। কিন্তু সকলেই কাল্পনিক। আজ প্রথম কিস্তি।)

সুমিতেশ ঘোষঃ এক সময় লাল ঝান্ডার মিছিলে হাঁটতে দেখেছিলাম আবোকে। তারপর আবোর ছেলে জয়নাল তৃণমূল হয়েছে। বাঁশের শক্ত লাঠিতে দলীয় পতাকা লাগিয়ে সে কি লড়াই। মার খেয়েছে। মার দিয়েছে। কতবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল ওকে। আবোকে এই বৃদ্ধ বয়সে হাসপাতালের শয্যায় ছেলের মাথার কাছে বসে কত রাত কাটাতে হয়েছে।

Top News

তারপর দল ক্ষমতায়। কি খুশি হয়েছিল জয়নাল। কোথা থেকে নেত্রীর একখানা ছবি জোগাড় করেছিল। সেই ছবি বুকে নিয়ে সবুজ আবীর মেখে গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছিল সে। তারপর দিন গিয়েছে। নতুন নতুন লোক এসেছে। দলের তখন রমরমা বাজার। জয়নালের সামনে দলে এসে কে কখন নেতা হয়ে গেল, কার কাঁচা বাড়ি পাকা হয়ে গেল, দু চাকা ছেড়ে চার চাকায় ঘুরতে শুরু করল, ও ঠিক বুঝে উঠতেই পারে নি।

আবো একদিন রাতে জয়নালের ভাত বাড়তে গিয়ে বলেই ফেললেন, “ক্যারে জয়নাল, হামরা ওটেকনায় রয়া গেইলং। আর উমরা? মোক তো মেলা কচিস। এলা কাক কবু?”

জয়নাল আর নিজেকে সামলে রাখতে পারে নি। ভাতের থালা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। সে রাতে আর ফেরে নি। আবো গোটা রাত দু চোখের পাতা এক করতে পারে নি। মুখ ফসকে বলে ফেলে অনুতাপ করেছে।

পরের দিন সকাল সকাল শহরে এক নেতার বাড়িতে এসে হাজির হয়েছিল জয়নাল। কিছু একটা ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে। কিন্তু এত ভীর, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে গিয়েছে সে। সেই থেকে আর কখনও মিছিলে পা মেলায় নি জয়নাল। এবার গোটা ভোট প্রক্রিয়ায় নিজেকে রাজনীতির বাইরে রেখেছিল। দলের স্থানীয় অনেক নেতা কর্মী এসে ওকে বুঝিয়েছে। কিন্তু কারুর কথার উত্তর দিতে যায় নি। শুধু বলেছে, “একদিন কামাই না করিলে ভাত জুটিবে না। বুড়া মাও, চখুত ছানি পড়ি গেইচে। কামাই থাকি ফিরি আসি বায়রা যাবার না পাং।”

আবো বোঝে জয়নালকে। পাছে রেগে যায়, তাই কিছু বলে উঠতে পারে না। কিন্তু মনে মনে তীব্র ক্ষোভ আর জ্বালা নিয়ে ছটফট করে। রাতে ঘুমোতে পারে না। একদিন রাতে জয়নাল মাকে ছটফট করতে দেখে বলেই ফেলল, ‘মাও হামার নাকান মেলা মানসি, উমরাও পাট্টি করি গেইচে। কোনয় নাই পায়। খালি নেতার ঘরে কামাই করি নিছে। হামাক কামলা খাটি খাওয়া খাইবে। ফাও চিন্তা না করিস তো। নিন যা।”

আবো নিজের চোখের জল সামলে নিয়ে বলেছে, “উজ্জল টারও একে আবস্থা। পাট্টি করির যায়া কি ডাঙে না খাইচে, কিন্তুক কিছুই নাই পায়। বাজারত যায়া চায়ের দোকানত ঢিপ ধরি বসি থাকে। উমাই এইবার ভোট কাক দিবে মুই জানং। কিন্তুক হামরা, হামরা কি করমো?”