টক দই স্বাস্থের পক্ষে কতটা উপকারি, জেনে নিন

আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যদি আমরা অল্প পরিমানে দই রাখি তাহলে আমাদের স্বাস্থের পক্ষে উপকারি বলে মনে করছেন ডায়েটেশিয়ানরা । আমরা সাধারণত দুই রকমের দই বানিয়ে থাকি। টক দই এবং মিষ্টি দই। এই দুই ধরনের দইর মধ্যে সব থেকে উপকারি টক দই। মানুষ পছন্দ করে থাকে দুই ধরনের দই তাও বলা যায় যে টক দই কিন্তু বেশী উপকারী মিষ্টি দইয়ের থেকে। দুপুরের খাবারের পর দই খাওয়ার অভ্যাসটি খুবই উপকারী। টক দই আমাদের শরিরের কি কি উপকার করে থাকে এবং কোন সময় খেলে বেশি উপকার আমরা একটু দেখে নেব বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন

১) দই আমাদর হজম শক্তিকে বাড়ায়ঃ সারাদিনে আমরা অনেক রকম খাবার খেয়ে থাকি ।অনেক সময় আমাদের শরীর তা হজম করতে অক্ষম হয়।তার ফলে পেটের নানা অসুবিধা দেখা দেয়। দই কিন্তু আমাদের হজম শক্তি বাড়িয়ে তোলে যার ফলে আমাদের শরীরের পরিপাক শক্তি বারে এবং পেটের সমস্যা দূর হয়ে যায়।খাবার খাওয়ার পর দই খেলে তা খাবার পরিপাক হতে সাহায্য করে।

২) একদম ছোট বাচ্চাদের জন্য দই খাওয়া খুবই উপকারীঃ বাচ্চাদের পাচনতন্ত্র দুর্বল থাকায় তারা সহজেই সব খাবার খেয়ে হজম করতে পারে না।দই কিন্তু এমনই একটি খাদ্য যা সহজে বাচ্চারাও হজম করতে পারে।দই এর মধ্যে ক্যালসিয়াম থাকে যা বাচ্চাদের নরম হাড়কে শক্ত বানায় আর বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।দইয়ে যে প্রোটিন থাকে তা সহজেই বাচ্চারা হজম করতে পারে।তাই দই বাচ্চাদের জন্যও খুবই প্রয়োজনী।

৩) দই আমাদের বিষন্নতাকে দূর করে ও চাপ মুক্ত করেঃ আমরা সারাদিন অনেক রকম কাযে ব্যাস্ত থাকি আজকের দিনের মতো প্রতিযোগিতামূলক সমাজে বিষন্ন এবং চাপমুক্ত থাকা খুবই কঠিন।কিছু ব্যাক্টেরিয়া যা আমাদের অন্ত্রে থাকে সেই সকল ব্যাক্টেরিয়া থেকে আমাদের মস্তিকের চাপ কে নিয়ন্ত্রণ করে।দইর আরও একটি উপকারিতা হল আমাদের মস্তিষ্কের চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

৪) দই ওজন কমায়ঃ আমাদের শরীরের চর্বি আমাদের মোটা করার সাথে সাথে অনেক অসুখ ও বহন করে নিয়ে আসে।চর্বিতে একটি হরমোন সেক্রিট করে যার নাম কর্টিসল।এই হরমোনটি স্থূলতা বাড়ায় আমাদের শরীরে যা ডেকে আনে বহু রোগ।দই কিন্তু এর থেকে আমাদের রক্ষা করে।দইয়ের মধ্যে ক্যালসিয়াম থাকে যা কর্টিসলের ভারসাম্য কে বজায় রাখে। আর তাই আমাদের স্থুলতার সম্ভাবনা কে কমায়।

৫) আলসারের সম্ভাবনা কমায়ঃ দই আমাদের পেটে আলসার হওয়ার সম্ভবনা কে অনেকটাই আটকায়।আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রকেও সুরক্ষিত রাখে দই।আমাদের পেটের ক্যান্সারের সম্ভাবনাকেও দুরে সরিয়ে রাখে।তাই দুপুরের খাওয়ার পর দই খাওয়া একটি খুবই ভালো অভ্যাস বলে মনে করেন ডায়েটেশিয়ানরা।

৬) আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করেঃ দই আমাদের হার্টের মধ্যে ধমনীর মধ্যে কোলেস্টেরলকে হওয়া থেকে আটকায়।দুপুরের খাবার খাওয়ার পর দই খেলে অবশ্যই আমাদের হার্ট সুরক্ষিত থাকে এবং কার্ডিওভাস্কুলার সংক্রান্ত অসুখও দূরে থাকে।

৭) দইতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম থাকে যা আমাদের হাড় আর দাঁতকে মজবুত করে তোলেঃ মহিলাদের শরিরে ক্যালসিয়ামের অভাব বেশি থাকে । আমাদের হাড় এবং দাঁতের প্রধান উপাদান।বেশী করে মহিলাদের শরীরে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত জরুরী। ৩০ বছর বয়সের পর থেকে অনেক মহিলাদের ক্ষেত্রে হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। আগেই যেমন লিখেছি যে দইয়ে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম থাকে যা আমাদের হাড়ের জন্য উপকারী।তাই সুস্বাদু খাবারের সাথে সাথে যদি আমাদের দাঁত আর হাড় সুরক্ষিত থাকে তাহলে ক্ষতি কি?

৮) কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করেঃ দইয়ের মধ্যে রক্তের কোলেস্টরলকে কমানোর ক্ষমতা আছে।কোলেস্টেরল থেকে আমাদের নানা হৃদয় সংক্রান্ত অসুখ আর স্ট্রোক থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।তাই এইটা নিয়মিত দুপুরের খাবার পর খা ওয়া খুবই উপকারী।

৯) দই আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম কে শক্তিশালী বানায়ঃ ২০১৭ সালে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তি যেমন উন্নতি করেছে ঠিক সেইভাবেই এই উন্নতি এই সমাজকে দুষনময় করে তুলেছে।যা আমাদের শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে খুবই দুর্বল করে তুলেছে।দই আমাদের শরীরের সেই ইমিউনিটি সিস্টেমকে আবার শক্তিশালী করে তোলে এবং বিভিন্ন রোগের থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

১০) যোনি সংক্রমণ থেকে রক্ষা দেয়ঃ মেয়েদের জন্যই দই আরো বেশি উপকারী।দইয়ে লাক্টিলবাসিলাস আসিডফিলাস থাকে।এই ব্যাক্টেরিয়া আমাদের খাদ্যে খাজা চিনির সাথে প্রতিক্রিয়া করে আর হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড তৈরি করে যা যোনির ছত্রাক সংক্রমণ কে দূর করে।