আক্রমনের হাত থেকে রাজ্যের পাক বন্দিদের আগলে রাখছেন ভারতীয় বন্দিরা

ওয়েব ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারিঃ পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গিহানার পর গোটা দেশ উত্তাল। অসহিষ্ণুতার আবহে আক্রান্ত হয়েছেন কাশ্মীরি নাগরিকরা। তার রেশ ছড়িয়েছে গরাদের ও-পারেও। দিন কয়েক আগে জয়পুর সেন্ট্রাল জেলে পুলওয়ামার উত্তেজনার আবহেই পিটিয়ে খুন করা হয় পাকিস্তানি বন্দি শাকির উল্লাহকে। জয়পুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের সব রাজ্যেই জেলবন্দি পাকিস্তানিদের নিরাপত্তায় কড়াকড়ির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দমদমের জেলে পাকিস্থান বন্দিদের আগলে রেখেছেন সেখানকার বন্দিরাই।

Top News

সংশোধনাগার সূত্রের খবর, সেখানকার আধিকারিকদের বন্দিরা জানিয়েছেন, কোথায় কী হচ্ছে, জানা নেই। এখানে থাকতে থাকতে ওঁরা তাঁদেরই একজন হয়ে গিয়েছেন। এখানে ওঁদের কিচ্ছু হবে না। জপুরের ঘটনার পর অবশ্য কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নন কারা কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে এ রাজ্যের মোট ১৪জন পাকিস্তানি বন্দি রয়েছেন। সবক’টি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকেই ওই জেলবন্দিদের উপর বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলিপুর সংশোধনাগারে ছিলেন খাদিমকর্তা অপহরণে অভিযুক্ত আরশাদ খান-সহ কয়েকজন পাক বন্দি। আলিপুর থেকে সংশোধনাগার বারুইপুরে স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়ার আগে সেখানকার পাক বন্দিদের নিরাপত্তার জন্য প্রেসিডেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দমদম সংশোধনাগারে রয়েছেন জনা আটেক পাকিস্তানি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে নবাব, আদিরা-সহ পাঁচজন একই পরিবারের সদস্য।

সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি বন্দিরা যাতে নিজের সেল বা ওয়ার্ড থেকে খুব বেশি বাইরে ঘোরাঘুরি না-করেন, বাইরে বেরোলেও যাতে তাঁদের সঙ্গে রক্ষীরা থাকেন, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন কারাকর্তারা। শুধু তাঁরাই নন, কাশ্মীরি নাগরিক এবং নাশকতা বা দেশদ্রোহিতার মামলায় অভিযুক্তদের নিরাপত্তাও কঠোর করার বিষয়েও জানানো হয়েছে। মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আফতাব আনসারি, জঙ্গি সংগঠন আইএসের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ধৃত মহম্মদ মসিউদ্দিন ওরফে মুসা, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গিও রয়েছেন এই তালিকায়। সংশোধনাগারে যে সব সেলে তাঁরা রয়েছেন, সেখানে যাতে সর্বক্ষণ পালা করে রক্ষীরা থাকেন, যাতে কেউ তাঁদের উপর চড়াও হতে না-পারে।

দমদম সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, আদিরা, ইশরতরা আর পাঁচজন বন্দির মতোই ছবি আঁকা, শিল্পচর্চার সঙ্গে জড়িয়ে গত কয়েক বছর ধরেই। সেই সুবাদে এখানকার আর পাঁচজন আবাসিকের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতাই হয়ে গিয়েছে। পুলওয়ামার ঘটনার পর আদিরাদের উপর নজরদারি বেড়েছে। সর্বক্ষণ রক্ষীরা তাঁদের চোখে চোখে রেখেছেন। এই নিরাপত্তার কড়াকড়িতে কিছুটা বিব্রতই অন্যরা। সংশোধনাগার সূত্রের খবর, পাকিস্তানি বন্দিরা তাঁদের ওয়ার্ড থেকে বেরোলে তাঁদের কার্যত ঘিরে রাখছেন অন্যরা। নিরাপত্তার বেড়াজালে যাতে এই ক’বছরের সম্পর্কে র বাঁধনে কোথাও দাঁড়ি না-পড়ে, তা দেখার জন্য সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকে আর্জি জানিয়েছেন বন্দিরা। পাশাপাশি যাঁদের সঙ্গে আদিরা, ইউসুফদের রোজকার ওঠাবসা, তাঁদের আত্মীয়তার উপরই নিশ্চিন্তে ভরসা রাখছেন ইউসুফরা।