বাঁকুড়া জেলা সংশোধনাগার থেকে উদ্ধার হল ধর্ষণে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মহারাজের ঝুলন্ত দেহ

ওয়েব ডেস্ক, ২৪ জুনঃ বাঁকুড়া জেলা সংশোধনাগার থেকে উদ্ধার হল ধর্ষণে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক মহারাজের ঝুলন্ত মৃতদেহ ৷ মৃতের নাম স্নেহাশিস মহারাজ৷ রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ ছিল সে৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে সংশোধনাগারে চাঞ্চল্য ছড়ায়৷ জানা যায়, বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমে দীর্ঘকাল ধরে দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন স্নেহাশীষ মহারাজ। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এক নাবালিকার পরিবারের তরফে বাঁকুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। অভিযোগ, রামকৃষ্ণ মিশন এলাকারই এক নাবালিকাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন ঐ মহারাজ। শুধু তাই নয় আপত্তিজনক অবস্থায় বহু ছবিও তিনি মোবাইলে ক্যামেরাবন্দী করতেন বলে অভিযোগ।

Top News

এরপরই ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর মেয়েটির পরিবার তা জানতে পেরে বাঁকুড়া সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বর্ধমানের মেমারী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় স্নেহাশীষ মহারাজ (চৌধুরী) কে। জানা যায়, স্নেহাশীষ মহারাজ বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মিশনের গ্রন্থাগারের দায়িত্ব সামলাতেন। সেখানেই ঐ এলাকার এক দুঃস্থ কিশোরীকে লাইব্রেরীতে পড়ানো, সুযোগ সুবিধা দেওয়া সহ নানা অছিলায় দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। দিনের পর দিন এ ঘটনা ঘটলেও মেয়েটির পরিবার কোনও কিছুই জানতে পারেনি। কিন্তু হঠাৎই অসাবধানতাবশত ওই মহারাজের তোলা ভিডিওগুলি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে৷ ইন্টারনেটের দৌলতে মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে পড়ে৷ ফলে মহারাজের অপকীর্তি ফাঁস হয়ে যায়। গ্রেপ্তার করা হয় ওই মহারাজকে।

তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ও পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে মহারাজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় বাঁকুড়া জেলা আদালত। বাঁকুড়া জেলা আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলেও শেষরক্ষা হল না। উচ্চ আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়া চলাকালীনই তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল সংশোধনাগারেই। কী কারণে এই অপমৃত্যু তা খতিয়ে দেখছে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে মহারাজের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।