প্রথম ঋতুমতিতেই আতঙ্কে ভোগেন মেয়েরা, কিন্তু কেন? জেনে নিন এক ঝলকে

ওয়েব ডেস্ক, ৪ মার্চঃ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের কাছে মাসিক যতটা সাধারণ ও নিয়মিত ব্যাপার। আর বয়ঃসন্ধিকালে সেই মেয়েটির প্রথম মাসিক ছিল ততটাই আতঙ্কের। এ সময় মেয়েদের শরীরে আসে আমূল পরিবর্তন যার সাথে শারীরিক ও মানসিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত ১২-১৩ বছর বয়স থেকেই মাসিক শুরু হয় মেয়েদের। অনেকের ক্ষেত্রে ৮-৯ বছরেও শুরু হয়ে যেতে পারে। আবার অনেকের ১৫-১৬ বছর বয়সে মাসিক শুরু নাও হতে পারে। তাই প্রথম মাসিক হওয়ার আগের কিছু লক্ষণ জেনে রাখা ভাল। তা নিম্নে দেওয়া হল………

Top News

১) প্রথম মাসিকের লক্ষণ কী?

ক) সাধারণত মায়েদের যে বয়সে প্রথম মাসিক হয়, তা মেয়েদের ওই বয়সে প্রথম মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আগে বা পরে হতে পারে।

খ) মাসিক শুরু হওয়ার প্রায় ৩ বছর আগে থেকে স্তনের বৃদ্ধি শুরু হয়। সাধারণত স্তনের বৃদ্ধির ৪ বছরের মধ্যে মাসিক শুরু হয়। শরীরের পিউবিক হেয়ার বৃদ্ধি পায়। পিউবিক হেয়ার বৃদ্ধির ২ বছরের মধ্যে প্রথম মাসিক হয়।

গ) প্রথম মাসিক হওয়ার আগে যোনি দিয়ে সাদা বা হলুদাভ স্রাব নির্গত হবে। স্রাব নির্গত হওয়ার ৬-১২ মাসের মধ্যে প্রথম মাসিক হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে ১৮ মাস লেগে যেতে পারে।

২) প্রথম মাসিকের প্রস্তুতি নেবেন কীভাবে ?

ক) সাধারণত ২-৭ দিন পর্যন্ত মাসিক স্থায়ী হয়। সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন।

খ) ১২-১৩ বছরের সময় বেশির ভাগ মেয়েদের মাসিক হয়ে যায়। তাই এই সময়ে মেয়েদের মাসিকের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সাথে রাখা ভাল।

গ) স্কুলে বা অন্য কোন পাবলিক স্থানে প্রথম মাসিক হলে ঘাবড়ে না যেয়ে আশেপাশের কারো সাহায্য নিন।

৩) অভিভাবকদের কর্তব্য কী ?

ক) মেয়ের সাথে কথা বলুন। তাকে জানান যে এটি খুবই স্বাভাবিক একটি নিয়ম। কোন চিন্তার বিষয় নেই।

খ) নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মেয়েকে জানান। তাকে আশ্বস্ত করুন যে ভয় পাবার কিছুই নেই। স্যানিটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে ধারণা দিন।

গ) মাসিকের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে একটু বাড়তি নজর দেয়া উচিৎ।

ঘ) মাসিক সম্বন্ধে পড়তে আগ্রহী করুন। বিভিন্ন বই পাওয়া যায় তা পড়ান। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয় বলে মনে করা হয়।

ঙ) মাসিক নিয়ে কথা বলতে লজ্জা পাবেন না। এই সময়ে আপনার মেয়ের ডাক্তার হচ্ছেন আপনি। প্রথম মাসিক প্রত্যেকটি মেয়ের জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। নিজের সম্পর্কে সচেতন হন।

৪) মাসিক হলে কি কি করা উচিতঃ

মাসিক সাধারনত ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সে হয়ে থাকে তবে এই সময়ের আগে এবং পরেও হতে পারে। মাসিক প্রতিমাসে হয় এবং ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চলে। এইসময় অনেকের তলপেটে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং শারীরিক দুর্বলতা বোধ হয়। বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার, প্রচুর পানি খেতে হবে মাসিকের সময়ে, সেইসাথে প্রয়োজন মত বিশ্রাম নিতে হবে। ইনফেকশন এড়াতে পরিষ্কার পরিছন্ন থাকা জরুরি। এই সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন বা কাপড় যেটাই ব্যবহার করা হোক তা প্রতি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর পর পাল্টাতে হবে।

মাসিক শুরু হবার পর প্রথম ৫ থেকে ৭ বছর নিয়মিতভাবে নাও হতে পারে। যেহেতু মাসিক হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই হরমোনের মাত্রা কম্ বেশি হলেই মাসিকের উপর প্রভাব পড়ে। এতে ভয়ের কিছু নাই। তবে মাসিক হঠাত বন্ধ হয়ে গেলে, অনিয়মিত হলে বা ৮ দিনের বেশি চললে ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করা উচিত।