পঞ্চায়েতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত রাজ্যের

ওয়েব ডেস্ক, ১৬ আগস্টঃ সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চায়েত মামলার রায় ঝুলছে। তাই বাধ্য হয়েই যে সব পঞ্চায়েতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে সেখানে প্রশাসক বসানোর নির্দেশ দিল নবান্ন। ওই পঞ্চায়েত গুলিতে নতুন বোর্ড গঠনের কাজ শুরু করতে পারেনি। কারণ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় শাসকদল ওই পঞ্চায়েতে জয়লাভ করার পর বিজেপি সহ একাধিক বিরোধী দল আদালতে মামলা করে। ফলে পঞ্চায়েত মামলার জটে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না। ফলে সমস্যা বাড়ছে। আর তাই নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার ওই মেয়াদ উর্ত্তীন পঞ্চায়েত গুলিতে প্রশাসক নিয়োগ করে কাজের ধারা বজায় রাখতে চায়। পঞ্চায়েত আইন অনুসারে, জেলা পরিষদে জেলাশাসক, পঞ্চায়েত সমিতিতে মহকুমাশাসক, গ্রাম পঞ্চায়েতে বিডিও দায়িত্বভার সামলাবেন।

Top News

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের ৩৪ শতাংশ আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে বিজেপি। ফলে নির্বাচনের সময়তেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই ৩৪ শতাংশ আসনে জয়ীদের শংসাপত্র দিতে নিষেধ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলে দিয়েছিলেন এই মামলার শুনানি হবে ৬৬ শতাংশ আসনের নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোট মিটে যাওয়ার প্রায় তিন মাস পরেও শুনানি হয়নি সেই মামলার। শেষ দিনের শুনানির শেষে আদালত জানায় ১৭ অগাস্ট হবে রায় দান। তখন রাজ্যের তরফে জানানো হয় ৭ আগস্ট পঞ্চায়েত গুলির মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। আবেদন করা হয় তার আগে রায় দেওয়ার জন্য। তখনই বিচারপতিরা জানান ৬ আগস্ট হবে রায় দান। কিন্তু সে দিনও পিছিয়ে যাওয়ায় ধোঁয়াশা তৈরি হয় বোর্ড গঠন নিয়ে। প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি প্রশাসক বসানো হবে পঞ্চায়েত গুলিতে?

এর মধ্যেই আবার গত ১০ তারিখ সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয় ৮টি জেলা পরিষদ সহ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং সমিতির বোর্ড গঠনের কাজ শুরু হবে ১৬ অগাস্ট থেকে। তারপরেই বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, যেসব পঞ্চায়েতের মেয়াদ শেষ হয়েছে সেখানে প্রশাসক বসানো হবে। এ ব্যাপারে নবান্ন থেকে ছাড়পত্র মিলেছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে আজ থেকেই। সুপ্রিম কোর্টের রায় আসা না পর্যন্ত বহাল থাকবেন প্রশাসকেরা। তারপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পঞ্চায়েত দফতর সূত্রে খবর, কোর্টের রায় পিছেয়ে যাওয়ার জন্য উন্নয়নের কাজ যেন থমকে না যায়, সেই কারণেই এই প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।