বিধায়ক খুনের ঘটনার পর তৎপর পুলিশ, কোচবিহারে বাড়ল সাংসদের নিরাপত্তা   

কোচবিহার, ১১ ফেব্রুয়ারিঃ বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের খুনের ঘটনার পরেই কোচবিহারের সাংসদ তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়ের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হল। সাংসদ হওয়ার পর একজন মাত্র নিরাপত্তা কর্মী পেয়েছিলেন পার্থ বাবু। কিন্তু গতকাল তাঁকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন করে আরও একজন নিরাপত্তা কর্মী দেওয়ার কথা জানানো হয়। সাংসদ এই মুহূর্তে দিল্লীতে থাকলেও ওই নিরাপত্তা কর্মী ইতিমধ্যেও নিয়োগ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সাংসদ পার্থ প্রতিম রায় বলেন, “এমনিতেই সাংসদদের দুজন করে নিরাপত্তা কর্মী দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু এতদিন আমি একজনকে নিয়েই চলছিলাম। গতকাল পুলিশের পক্ষ থেকে আরও একজনকে দেওয়ার কথা জানায়। আমি দিল্লীতে থাকলেও ওই নিরাপত্তা কর্মী ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।”

Top News

শুধু সাংসদ নয়, নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিধায়কদের নিয়েও পুলিশ কর্তারা বৈঠক করতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ওই বৈঠকে নিরাপত্তা নিয়ে কেউ শঙ্কায় রয়েছেন কিনা, শঙ্কায় থাকলে তাঁকে কি ধরণের নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। যদিও কোচবিহার জেলা পুলিশ প্রশাসন ওই বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজী হয় নি।

রাজনৈতিক ভাবে উত্তপ্ত জেলা কোচবিহার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেরা এই জেলায় দুষ্কৃতীদের দাপটও রয়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে প্রচুর সংখ্যায় এই জেলায় যে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত হয়েছে, তার প্রমাণও পুলিশ একাধিকবার পেয়েছে। বোমা গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীরও। কিন্তু বিধায়কের মত কোন জনপ্রতিনিধি বা সেই মাপের নেতাকে গুলি করে খুন করার ঘটনা সম্প্রতি কোচবিহার জেলায় ঘটে নি। কিন্তু নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে যে ভাবে একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে সামন থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছে, তাতে আর কোন সেই মাপের জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। সেই কারণেই সাংসদ পার্থ প্রতিম রায়ের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পুলিশের ওই বৈঠক করার কথা বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পার্থ প্রতিম রায় বলেন, “ আমরা সন্ত্রস্ত নই। এই দুষ্কৃতিকারীদের প্রতিরোধ আমরা মানুষকে সাথে নিয়ে রাস্তায় নেমেই করবো।”