ধৃত গরু চোরদের ঘিরে উত্তেজনা তুফানগঞ্জে, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

তুফানগঞ্জ, ২২ জুলাই: গরু চুরির সময় হাতে নাতে ধরা পরে গ্রামবাসীদের রোষের মুখে ২ যুবক। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধৃত ২ যুবকে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে ওই ২ যুবককে গ্রেপ্তার করে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ মহকুমার ঘটনা। রবিবার ভোরবেলায় তুফানগঞ্জ ২ নং ব্লকের ভারেরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত গ্রামবাসী পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ, গত ছয়মাস ধরে গ্রামে অনেক গরু চুরি হয়েছে। গতকাল রাতে এলাকার বাসিন্দা জগদীশ চন্দ্র দাসের বাড়ি থেকে চারটি গরু চুরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রতন সরকারের এবং রণজিৎ দাশের বাড়ি থেকে একটি করে গরু চুরি হয়। গরু চুরি হওয়ার আতঙ্কে গ্রামবাসীর রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। সামনে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও গরু চুরি ঘটনা ঘটেই চলেছে। এদিন গ্রামবাসীদের অনেকেই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, ওই এলাকা দিয়ে গরু ও অন্যান্য বেআইনি জিনিস পাচার হয়। কিন্তু পুলিশ কিছু করতে পারেনা। পুলিশের সঙ্গে পাচার কারীদের যোগসাজশ রয়েছে।”

Top News

জানা গিয়েছে, এদিন গ্রামের বাসিন্দা রণজিৎ দাশের বাড়ি থেকে একটি গরু বের করে গাড়িতে তুলছিল গরু চোরেরা। বাড়ির লোকজন শব্দ পেয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখেন গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। তখন তারা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। গ্রামবাসী ওই গাড়ি সহ দুজন গরু চোরকে আটক করেন। এর পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর রোষের মুখে পড়ে আটক দুই গরু চোর। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মানসাই পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয় গ্রামবাসীর। এরপর বক্সিরহাট থানায় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। আটকে রাখা হয় ধৃত গরু চোরদের। পরে তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে গন্ডগোল থামায় এবং ওই দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদেরত দাবি, গরু চোর ও পাচারকারীদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে। পুলিশের ওপর তাদের ভরসা উঠে গিয়েছে।

পাশের অঞ্চলের বাসিন্দা আশিস কুমার বর্মা বলেন, “শেষ রাত্রে দুইজন গরু চোর ধরা পড়েছে। তার কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ চলে আসে। আমরা গ্রামের কেউ পুলিশকে খবর দেইনি। কিন্তু আমরা যখন চুরি যাওয়ার পরে অভিযোগ জানাই, তখন অনেকদিন কেটে গেলেও পুলিশ আসে না। আমরা মনে করি এরসঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে। আজকে চোরেরাই পুলিশকে খবর দিয়েছে। আমরা অসহায়। গ্রামের মানুষের সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে। গরু নিয়ে চিন্তায় গ্রামের মানুষের রাতে ঘুম নেই। একটা দুইটা গরু রাখার মত ক্ষমতা নেই। মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। মানুষ কোথায় যাবে। কোন প্রশাসনের উপর ভরসা করবে। আমাদের দাবি এই অঞ্চলে যতগুলি গরু চুরি হয়েছে, তার মূল্য ধৃতদের দিতে হবে।”