দ্রুত নেতা হিসেবে উঠে আসাটাই কি কাল হল, নিশীথকে নিয়ে প্রশ্ন নানা মহলে

রাজীব বর্মণ, কোচবিহারঃ দ্রুত নেতা হিসেবে উঠে আসাটাই কি কাল হল সদ্য বহিষ্কৃত তৃণমূল যুব নেতা নিশীথ প্রামাণিকের? ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেস তো বটেই বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে এখন মূল আলোচনার বিষয় নিশীথ প্রামানিক। কেন তাঁকে বহিষ্কার করা হল, তার কারণ কার্যত এখনও অন্ধকারে। তবে অনেকেই মনে করছেন, নেতা হিসেবে দ্রুত উঠে এসেছেন নিশীথ প্রামানিক। আর দ্রুত উঠে আসার ফলে তাঁকে এভাবে ছিটকে পড়তে হয়েছে।

Top News

যুবা থেকে যাত্রা হয়েছিল নিশীথ প্রামাণিকের। সেভাবে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে কেউ ছিলেন না। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহারে যুবা’র মুখ রানা বোসের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে দেখা হত তাঁকে। কিন্তু সেই রানা বোসের সানিধ্য দীর্ঘদিন পাওয়ার সুযোগ হয় নি নিশীথের। যুবা যখন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাথে মিশে যায়। তখন জেলার যুব সভাপতির দায়িত্ব পান রানা বোস। এর কিছুদিন পরেই মৃত্যু হয় তাঁর। সেই থেকে একা হয়ে পড়েন নিশীথ। নিজে নিজেই সংগঠন সাজানোর জন্য চেষ্টা শুরু করেন। ওই সময় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি না থাকলেও নিশীথ প্রামানিক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে কোচবিহারে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সংগঠন সামাল দেন। এরপর অর্ঘ্য রায় প্রধানকে জেলার যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু অর্ঘ্য রায় প্রধান মেখলিগঞ্জের হলদিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জেলায় তখনও নিশীথ প্রামানিককেই মূলত যুব সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে। অর্ঘ্য রায়ের প্রধানের পরে সাংসদ পার্থ প্রতিম রায় কোচবিহারে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের দায়িত্ব পান।

ওই দায়িত্ব পাওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করে। ততদিনে দিনহাটায় যুব সংগঠনের শক্ত ভিত তৈরি করে ফেলেছেন নিশীথ প্রামানিক। পঞ্চায়েত নির্বাচনে যুব থেকেও প্রার্থী করতে চেয়ে কোলকাতায় বারবার ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। তাঁকে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজ না হওয়ায় দিনহাটা তো জেলার বহু জায়গায় যুব’র নাম করে নির্দল প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যায়। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের ভেটাগুড়ি ১ ও ২ নম্বর, মাতালহাট, পুটিমারি ২ নম্বর, ওকরাবাড়ী, গীতালদহ ১ ও ২ নম্বর, বড় শোলমারি গ্রাম পঞ্চায়েত যুব’র দখলে নিতে সক্ষম হন নিশীথ। শুরু তাই নয়, দিনহাটা ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রতীক ছাড়া নির্দল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা প্রার্থীরাই বেশী জয়ী হয়ে আসেন। জয় পান জেলা পরিষদের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একমাত্র নির্দল প্রার্থী কৃষ্ণ কান্ত বর্মণ।

ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে যুব’র একাধিক বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিন জনের মৃত্যু হয়। বহু মানুষ আহত হন। দুই পক্ষের লড়াই নিয়ে বিব্রত বোধ করে পুলিশকে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতাকেও নির্দেশ দিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও দিনহাটায় নিজের সংগঠন বাড়িয়ে নিতে সমর্থ হয়েছেন নিশীথ। দিনহাটা ১ নম্বর ব্লক ছাড়াও ২ নম্বর ব্লক, সিতাই এমনকি নাটাবাড়ী, তুফানগঞ্জ, কোচবিহার উত্তর, কোচবিহার দক্ষিণ, শীতলখুচি ও মাথাভাঙায় ধীরে ধীরে যুব’র সংগঠন গড়ে তুলছিলেন তিনি। এভাবে সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে যাওয়া নিশীথ প্রামাণিকের মাথার উপড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাট রয়েছে বলে মনে করে জেলার নেতাদেরকেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে শোনা যায় নি।

তবে ভেটাগুড়িতে গণেশ পূজার বহর নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। কোটি টাকা খরচ করে ওই পূজা হয়েছিল বলে বাসিন্দাদের মধ্যে প্রচার হয়ে গিয়েছিল। শুদু তাই নয়, তাঁর ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী, গাড়ির কনভয় নিয়ে যাতায়াত, পঞ্চায়েতে জয়ী সংগঠনের নেতাদের গাড়ি উপহার দেওয়া সহ বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরে অনেকেই টাকার উৎস কোথায়? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন। রাজ্য নেতাদের কাছে ওই বার্তা যে পৌছায় নি, তা হলপ করে বলা মুশকিল। পাশাপাশি বিজেপই নেতাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ ও সভায় লোক পাঠানো নিয়েও নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও সেই সব অভিযোগকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে জানিয়ে নিশীথ পামানিকের বক্তব্য, “আমার বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত হয়েছে। তাছাড়া এমন আচমকা ঘোষণা হতে পারে না। তবে মনে প্রানে আজও তৃণমূল। আগামীতেও তাই থাকবো।”