উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এবার রবির বিরুদ্ধে সরব বিজেপি

কোচবিহার, ১১ জুলাইঃ কাটমানি ইস্যুতে যখন তোলপাড় রাজ্য, তখন সেই বির্তক উসকে দিয়ে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য দেবাশীষ মজুমদার সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্ট দেন। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এই শিক্ষাবীদের ফেসবুক পোস্ট যথেষ্ট আলোড়ন ফেলে। এই পোস্টে সরাসরি নাম না উল্লেখ করলেও রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী তথা উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী তৃনমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। আর এই পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতন্ডা উঠে চরমে। এবারে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আসরে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি।

Top News

এ বিষয়ে দেবাশীষ বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “হয়তো আমি সবটার প্রমান দিতে পারবো না, তবে ২০১৪-১৫ সালে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিদাতাদের বঞ্চিত করে অন্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রচুর টাকার কাটমানি নেওয়া হয়েছে। এই কর্মকাণ্ডে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ মূল হোতা ছিলেন।”

যদিও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও যুক্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, “ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময় নিয়োগ নিয়ে যদি কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকে তবে তার দায় ওই উপাচার্যের। কারন নিয়োগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোনো জন প্রতিনিধি নয়। এই অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”

এদিকে এই ঘটনায় তোলপাড় কোচবিহার জেলার রাজনীতি। এদিন এই ইস্যুকে সামনে এনে আসরে নামে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে কোচবিহার জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা বলেন, “উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার সরব হয়েছেন এই বিশ্ব বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন উপাচার্য। আমরা চাই এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। আমরাও খোঁজ নিয়ে আরও বেশ কিছু দুর্নীতির সন্ধান পেয়েছি। এখানে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসনে নিয়োগ করা হয়েছে সাধারন প্রার্থীদের। ভিনরাজ্যে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের এ রাজ্যে সাধারন হিসাবে গণ্য করা হয় আইন অনুযায়ী, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে।”

নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি ওই ঘটনা সম্পর্কে রাজ্যের রাজ্যপাল তথা উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে জানানো হয়েছে বলে মালতি দেবী জানিয়ে বলেন, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ টি বিষয়ের উপর আর টি আই করা হয়েছে। কিন্তু দুটি  বিষয়ের কোনও তথ্য এখনো জানানো হয়নি। তার মধ্যে একটি কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য। এনিয়ে ফের ইনফরমেশন কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হবে। প্রয়োজনে মামলাও করা হবে।