তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে হামলার দায় নিয়ে বিজেপিতে বিভাজন তুঙ্গে, সিতাইয়ে চাঞ্চল্য

কোচবিহার, ১৪ জুনঃ তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়ার বাড়িতে হামলার ঘটনায় ধৃতদের নিয়ে সিতাই বিজেপিতে বিভাজন কার্যত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গতকাল সিতাইয়ের বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়ার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল ওঠে। পুলিশ রাতেই অভিযানে নেমে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে।

Top News

ওই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এদিন বিজেপির যুব সংগঠন যুবমোর্চার জেলা কমিটির সদস্য প্রশান্ত বর্মণের নেতৃত্বে  থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে তিনি অভিযোগ করে জানান, “ ছেড়ে বিজেপিতে আসা সিতাইয়ের নূর মহম্মদ প্রামাণিকের নেতৃত্বে এলাকায় বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাস সংগঠিত হচ্ছে। গতকাল সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে হামলার ঘটনাও তাঁর নেতৃত্বে হয়েছে। অথচ পুলিশ নিরাপরাধ বিজেপি কর্মীদের ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছি। দলের জেলা নেতৃত্বকেও সবটা জানিয়েছি।”

অন্যদিকে নূর মহম্মদ প্রামাণিকের দাবী করে জানিয়েছেন প্রশান্ত বর্মণ বিজেপির কেউ নয়। কাজেই তাঁর কথার কোন উত্তর দিতে রাজি নন তিনি। নূর মহম্মদ জানান, এক সময় তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তাঁদের নেতা বর্তমানে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সাথেই তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় বিজেপির মণ্ডল নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে কাজ করে যাচ্ছেন বলে নূর মহম্মদ দাবি করেন। তিনি বলেন, “আসলে কিছু মানুষ তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে টাকা খেয়ে তাঁদের কথায় কাজ করছে। তাই তাঁদের নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। সিতাইয়ের মানুষ এর বিচার করবেন।”

তৃণমূল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে দলে যোগ দান করানোর ঘটনা নিয়ে বিজেপির নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। ইতিমধ্যেই বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিজেপিতে যোগদান করানো গোটা রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ জানায় পুরানো বিজেপি কর্মীদের একটা বড় অংশ। কোচবিহারেও একাধিক যোগদান করানোর ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে বিজেপি কর্মীদের। কিন্তু এভাবে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ধৃতদের নিয়ে সিতাইয়ে বিজেপির মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসার ঘটনা সেভাবে দেখা যায় নি। আর ওই ঘটনা নিয়ে যে কোচবিহার জেলা বিজেপি নেতৃত্ব কিছুটা হলেও উদ্বেগে থাকবেন, তা বলাই যেতে পারে।