বিজেপির রথ নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক তৃণমূলের, রাস্তা জ্যাম করে আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা 

কোচবিহার, ৪ ডিসেম্বরঃ বিজেপির রথ আটকাতে কোচবিহারে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ কোচবিহার মা ভবানী মোড় এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে ওই বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, জেলা সহ সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ, তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভানেত্রী শুচিস্মিতা দত্ত শর্মা সহ বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব। সভার ভিতর থেকে কোন ভাবেই খবর যাতে বাইরে না যায়, তা নিয়ে কর্মীদের বারবার সতর্ক করতে দেখা যায়।

Top News

বৈঠক শেষে ১৪ ডিসেম্বর সুব্রত বক্সি, ২৮ ডিসেম্বর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ৮ জানুয়ারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ১৯ জানুয়ারি বিগ্রেড সভার প্রস্তুতি নিয়ে এদিন বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ বাবু বলেন, “কোচবিহার মদনমোহন ঠাকুরের দেশ। এখানে মদনমোহন ঠাকুর রথে উঠেন। আর কেউ কোন দিন ওঠে নি। কেউ উঠতে আসলে কোচবিহারের মানুষ তা হতে দেবে না।” কিন্তু বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা রথ আটকানো হবে কিনা, তা নিয়ে কোন তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে মুখ খোলেন নি। তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, “ ৭ তারিখ নিয়ে আমাদের ব্লক, অঞ্চল নেতাদের যা বলার বলে দিয়েছি। আমরা প্রতিবাদ করবোই।”

তবে কি ধরনের প্রতিবাদ হবে, তা স্পষ্ট করেন নি তৃণমূল নেতৃত্ব। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে সিধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক ভাবে কোন বুথ থেকে কারা কারা বিজেপির ওই সভায় যাচ্ছেন, তাঁদের দিকে নজর রাখা হবে। পারলে তাঁদের গ্রামেই আটকে রাখা হবে। তবে সভায় গিয়ে কোন বাধার সৃষ্টি করবে না তৃণমূল কর্মীরা। সভা শেষে রথ নিয়ে বের হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত হয়ে কালো পতাকা দেখানো হবে। বিশেষ কিছু জায়গায় জমায়েত করে যানজটের সৃষ্টিও করা হতে পারে, যাতে বিজেপির ওই গণতন্ত্র বাঁচাও রথ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে। প্রথম দিন সভা শেষে রথ দিনহাটার দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে, ওই দিন স্টেশন মোড়, মরাপোড়া চৌপথী, চাকীর মোড় ও ঘুঘুমারি, দেওয়ানহাট এলাকার যে কোন জায়গায় বড় ধরনের জ্যাম লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। রাসমেলা চলাকালীন ওই রথযাত্রা নিয়ে দুই দলের চাপানউতোরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।