বুথ ফেরত সমীক্ষায় কোচবিহার তৃণমূলে উদ্বেগ, গোপনে নিশীথের বাড়ী ছুটছেন অনেকেই  

কোচবিহার, ২১ মেঃ ভোট পর্ব মিটে গিয়েছে। কাল বাদে পরশু গণনা। তার মাঝে বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। প্রায় সকলের সমীক্ষায় ইঙ্গিত কেন্দ্রে ফের মোদী সরকার আসছে। এরাজ্যেও যথেষ্ট ভালো ফল করবে তাঁরা। আর সেই সমীক্ষা নিয়েই এখন চলছে জোর চর্চা। বিজেপি শিবিরে খুশির। উল্টো দিকে রীতিমত দুশ্চিন্তায় তৃণমূল শিবির।

Top News

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দাবি করেছেন, ২ লক্ষ ভোটে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে জিতবেন তাঁদের দলীয় প্রার্থী পরেশ চন্দ্র অধিকারী। পাশাপাশি সংবাদকে টাকা দিয়ে বিজেপি বুথ ফেরত সমীক্ষা করিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন তিনি।

সংবাদ মাধ্যমে সমীক্ষার বেশ কিছু ক্ষেত্রে কোচবিহার কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিককে সম্ভাব্য জয়ী হিসেবে দেখাচ্ছে। আর তাই ভরসা করে উঠতে পারছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ। কেউ গোপনে টেলিফোনে বিজেপি নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রাখছেন, আবার কেউ কেউ আরও একটু ভরসা তৈরি করতে আগ বাড়িয়ে চলে যাচ্ছেন কোচবিহারের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের বাড়িতে।

কোচবিহার-দিনহাটা রোডে ভেটাগুড়ি বাজার লাগোয়া নিশীথ প্রামাণিকের বাড়ী। সেখানে প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তা কর্মীদের নিছিন্দ্র পাহারা। আর বাড়ির বাইরে ও ভেতরে দেখা করতে আসা মানুষের ভির। বেলা যত বাড়তে থাকে ভিরও বাড়তে থাকে। সেই ভিরের মধ্যে তৃণমূল নেতা-কর্মী বলে পরিচিত কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে গত দুদিন ধরে। কোন রকমে মুখ লুকিয়ে দেখা করতে আসছেন। দলেরই পরিচিত কারুর সাথে দেখা হয়ে গেলে প্রথমে ভূত দেখার মত চমকে উঠছেন। তাঁদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, “বুথ ফেরত সমীক্ষার পর আর ভরসা করতে পারছি না। তাই আর কি!” এমন পরিস্থিতি হওয়ার জন্য নেতৃত্বদেরকেও গালমন্দ করলেন কেউ কেউ।

নিশীথ প্রামাণিক নিজের জেতার ব্যাপারে একশো শতাংশ নিশ্চিত। গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে ভোটের লিড বলে দিচ্ছেন। তাঁর হিসেব, ২০ টা গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল লিড পাবে। আর কিছু গ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বাকি গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুর এলাকা গুলোতে ব্যাপক লিড পাচ্ছে বিজেপি। তাই জেতা নিয়ে নয়, তিনি এখন লিড কতটা হবে, তা নিয়ে ভাবছেন।

তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব অবশ্য নিজেদের জেতার ব্যাপারে নিশ্চিত। তাঁদের দাবি, ২০১৬ সালের লোকসভা উপ নির্বাচনের মত লিড না থাকুক। জয় তাদেরই হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে এই আসনে জয়ী হবেন, তা জানতে ২৩ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।