পাগলা কুকুরের কামড়ে রোগাক্রান্ত গোরুর মৃত্যু, আতঙ্ক ছড়াল দিনহাটার গ্রামে

মনিরুল হক, দিনহাটা: পাগলা কুকুরের কামড়ে রোগে আক্রান্ত একটি গোরুর মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল দিনহাটার গ্রামে। বুধবার আক্রান্ত গরুটির মৃত্যুর পর ব্যাপক শোরগোল পরে যায় দিনহাটা ১ নং ব্লকের মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ভলকা ঝাকুয়াটারি এলাকায়। গ্রামবাসীদের থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় আড়াই মাস আগে গ্রামে একটি কুকুর পাগল হয়। কুকুরটি চারটি গরুকে কামড় দেয়। আক্রান্ত তিনটি গরুকে সনাক্ত করা গেলেও একটি অধরা থাকে। দিন কয়েক আগে গ্রামের বাসিন্দা পুষনাথ শর্মার একটি গরু জ্বরে আক্রান্ত হয়। পশু চিকিৎসক ডাকলে পরে গরুটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত বলে জানা যায়। ওই দিনই গরুটির মৃত্যু হয়। এই খবর চাউর হতেই গ্রামে আতঙ্ক ছড়ায়। গ্রামবাসীদের থেকে জানা গিয়েছে, গরুটির মালিকের বাড়ি সহ গ্রামের আরেকটি বাড়িতে কয়েকদিন আগে পুজো হয়। সেই পুজোতে অজান্তেই আক্রান্ত গরুর দুধের প্রসাদ খেয়েছে এলাকাবাসী। এদিন গরুটির মৃত্যুর পরই আতঙ্ক ছড়ায় গ্রামে। গরুর মালিকের অবশ্য দাবি, গরুকে কবে কুকুর কামড়েছে তারা জানতে পাননি। এদিন আতঙ্কিত গ্রামবাসী দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা দিতে ভিড় করেন। কিন্তু হাসপাতালে টিকা না থাকায় গ্রামবাসীদের ঘুরে আসতে হয় বলে অভিযোগ।

Top News

গ্রামের বাসিন্দা দেবাশিষ সরকার বলেন, “গরুর মালিক পুষনাথ শর্মার বাড়িতে এবং আমাদের বাড়িতে কয়েকদিন আগে পুজো ছিল। পুজোতে ওই গরুর দুধের প্রসাদ গ্রামের অনেক মানুষ খেয়েছে। তারপরই গরুটি অসুস্থ হয়ে পরে। পশু ডাক্তার দেখানো হয়। ডাক্তার জানান গরুটির জলাতঙ্ক রোগ হয়েছে। সেদিনই গরুটির মৃত্যু হয়। এরফলে গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পরেছেন। হাসপাতালে গেলে পরে পরিসেবা না থাকায় ফিরে আসতে হয়েছে। আমরা চাই গ্রামের মানুষ যাতে সরকারি চিকিৎসা পরিসেবা পায়।”

গ্রামবাসী বন্দনা শর্মা বলেন, “আমাদের গরুকে কোন দিন কুকুর কামড়েছে তা জানতাম না। হঠাৎ করে গরুটির জ্বর আসে। মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে। ডাক্তার ডাকি। ডাক্তার বলে জ্বর হয়েছে। গরুকে ইনজেকশন দিয়ে চলে যায়। এরপর আবার ডাক্তার ডাকা হয়। তখন ডাক্তার জানান, গরুটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত। এরপর গরুটি মারা যায়। বাড়ির পুজোতে এই গরুর দুধের তৈরি প্রসাদ খেয়েছে। তাই গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে কোন পরিসেবা পায়নি। গ্রামের মানুষ যাতে ভালো থাকে তার জন্য ব্যবস্থা করা হোক।”