জনসংঘের সাথে গায়েত্রী দেবীর সম্পর্কের দাবী শমীকের, মামলার হুমকি রবির

চন্দন দাস, কোচবিহারঃ জনসংঘের সাথে গায়েত্রী দেবীর সু-সম্পর্ক ছিল বলে দাবী করলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার কোচবিহারে এসে দলীয় কার্যালয়ে গণতন্ত্র বাঁচাও রথযাত্রা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে গিয়ে এমনই দাবী করে শমীক বাবু বলেন, “ জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীকে কোচবিহারের রাজ কন্যা গায়েত্রী দেবী আর্থিক ভাবে সহায়তা করেছেন।” তাঁর ওই বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ইতিহাস বিকৃতি অভিযোগ তুলে হুমকি দিয়ে বলেন, “জনসংঘ বা আরএসএসকে গায়েত্রী দেবীর আর্থিক ভাবে সয়াহতা করার প্রমান দিতে না পারলে শমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।”

Top News

৭ ডিসেম্বর কোচবিহার থেকে তাঁদের গনতন্ত্র বাঁচাও রথযাত্রার সূচনা করবে বিজেপি। ওই রথ যাত্রার সূচনা সভায় উপস্থিত থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শা। ওই রথযাত্রার সূচনা সভায় লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত করা হবে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। কিন্তু রাসমেলা চলাকালীন ওই সভা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ওই সভার জন্য রাসমেলায় সমস্যা হতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিজেপির ওই রথযাত্রার বিরোধিতা করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি আগেই হুংকার দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, কোচবিহার রাজ পরিবারের কুল দেবতা মদনমোহন ঠাকুর ছাড়া আর কেউ রথে উঠতে পারবেন না। এতে কোচবিহারের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে বলে জেলা ও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

আর সেই কারনেই এদিন কোচবিহারে এসে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “বিজেপির আগে জনসংঘ দল। সেই দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে আর্থিক ভাবে সহায়তা করেছেন কোচবিহারের রাজকন্যা গায়েত্রী দেবী। যে দলের সৃষ্টি লগ্নের সাথে কোচবিহারের রাজ পরিবারের এই নিবির সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের ঐতিহ্যকে ব্যাঘাত করার কোন ইচ্ছে আমাদের নেই।” শমীক বাবুর এমন মন্তব্যে বেজায় চটে যান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি মামলার হুমকি দিয়ে বলেন, “ কোচবিহারের রাজারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজিরবিহীন ইতিহাস তৈরি করে গেছেন। রামসেলা চলছে, সেখানেও আমরা সেই নজির দেখতে পাই। আর সেই পরিবারের সাথে আরএসএসের মত একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সম্পর্ক থাকবে, এটা কোচবিহারের মানুষ বিশ্বাস করে না। উনি আসলে বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে কোচবিহারের রাজ গরিমাকে নষ্ট করতে চাইছেন। এটা কোচবিহারের মানুষ কোন ভাবেই মেনে নেবে না।”
গণতন্ত্র বাঁচাও রথযাত্রা নিয়ে রাজ্য জুড়েই বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরেই বাগ যুদ্ধ চলছিল। কিন্তু কোচবিহারে ওই রথযাত্রার শুরু করতে গিয়ে বিজেপি রাজ পরিবারকে টেনে আনায় বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা।