নিজের বিধানসভাতেই দাপিয়ে বেড়ালেন রবি, তাঁর নির্দেশেই ছুটে বেড়ালেন পরেশ

কোচবিহার, ১১ এপ্রিলঃ ঘুরলেন নিজের বিধানসভা এলাকাতেই। কিন্তু নজরে ছিল পুরো কোচবিহার। আর তাঁর নির্দেশেই এপ্রান্ত থেকে অপ্রান্ত ছুটে বেড়ালেন দলীয় প্রার্থী পরেশ চন্দ্র অধিকারী। তিনি অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

Top News

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে এবারও সকলের নজরে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ বাবু। সকাল থেকেই সংবাদ মাধ্যমের এক ঝাঁক প্রতিনিধি তাঁর পিছু নিয়েছিলেন। ভোট শুরু হতেই বাড়ি বের হয়ে তাঁর গাড়ি ছুটল তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নাটাবাড়ির রাস্তা ধরে। চাকীরমোড়, হরিণচওড়া, গুড়িয়াহাটি, বাবুরহাট হয়ে প্রত্যেক এলাকার বুথের সংলগ্ন দলীয় ক্যাম্পে গিয়ে কর্মীদের সাথে কথা বললেন। অনেক ভোটার তাঁকে দেখে কথা বলার জন্য এগিয়ে আসলেন।

এরপর পৌঁছলেন তাঁর নিজের বুথ ডাউয়াগুড়ি ঘোষ পাড়া এলাকায়। সেখানে গিয়ে নিজের ভোট দিতে ঢুকেছেন। আর পিছনে পিছনে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ভোট দিতে দিতে সেটাও সামলে নিলেন রবিবাবু। আবার বুথের ভেতর যে বাহিনী নয়, প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে। দায়িত্বপ্রাপ্ত জওয়ানকে সেটাও বলে আসলেন।

ভোট দিয়ে জওয়ান সামলে বের হতেই একের পর এক খবর আসতে শুরু করল। নিজের বিধানসভা নাটাবাড়ি এলাকার দায়িত্ব নিজেই সামলাবেন বলে সিধান্ত নিলেন। আর কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বাকি এলাকা দেখার জন্য দলের প্রার্থীকে একের পর এক জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। সংবাদ মাধ্যম সঙ্গে থাকার সুবিধা নিয়ে প্রত্যেকটি গণ্ডগোলের খবর নিয়ে অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনকে ব্যাতিব্যাস্ত করে রাখছিলেন।
তিনি প্রথমেই তোপ দাগেন নির্বাচন কমিশনের কোচবিহারের দুই পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ জানানোর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে তোপ দাগেন তিনি। এরপর নিরুপায় হয়ে জেলা শাসক তথা ডিসট্রিক্ট রিটার্নিং অফিসার কৌশিক সাহাকেই ফোন করে তাঁকে সমস্ত ঘটনা জানাতে হয়েছে বলে জানান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের কৃষ্ণপুরে সীমান্তের পাহারার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ জওয়ানরা বুথ চত্বরে এসে ভোটে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। শুধু অভিযোগই করলেন না। ছুটে গেলেন সেখানে। ততক্ষণে অবশ্য বিএসএব জওয়ানদের কাউকে আর দেখা পাওয়া গেল না। দলীয় কর্মীদের সাথে ভোট নিয়ে আলোচনা সেরে আবার সেখান থেকে ছুটলেন। ছুটতে ছুটতেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে তরমুজ আর ডিম খেয়ে এনার্জি বাড়িয়ে নিলেন। সংবাদ মাধ্যমের কাছে ফের একদফায় অভিযোগ করলেন ইভিএম বিকল প্রসঙ্গ নিয়ে। বললেন, “এর আগে এত ইভিএম বিকল হওয়ার খবর পাওয়া যায় নি। এর পিছনে কোন চক্রান্ত আছে।”

দ্বিতীয় পর্বে ছুটলেন তাঁর বিধানসভা তোর্সা নদীর ওপাড়ের অংশে। সেখানে পানিশালা, দেওয়ানহাট, জিরানপুর, বলরামপুর হয়ে প্রায় সমস্ত এলাকা দাপিয়ে বেড়ালেন। এরমধ্যেই অভিযোগ পেয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানালেন, দিনহাটায় একটি বুথে ইভিএম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনার জন্য দায়ি করলেন বিজেপিকে। নাম ধরে ধরে ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের চেনালেন তিনি।

এদিকে তাঁর নির্দেশ মত দিনহাটার ভেটাগুড়ি, দিনহাটা, সিতাই, শীতলখুচি, মাথাভাঙা, কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক হয়ে ফিরলেন কোচবিহারে। ভোট শেষ হতেই নিজের বাড়ির অফিসে ফিরে আসেন রবিবাবু। আর সেখানে এসে উপস্থিত হন দলীয় প্রার্থী পরেশ অধিকারী। দিনভর এত পরিশ্রমের পরেও দুজনের মুখে যেন প্রশান্তির হাসি।