উত্তরবঙ্গে ফের নতুন মঞ্চ গড়ে সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে পৃথক রাজ্যের দাবিদাররা 

রাজিব বর্মন, কোচবিহারঃ পৃথক রাজ্যের দাবিতে ফের সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে গ্রেটার সহ সম মনোভাবাপন্ন উত্তরবঙ্গের অন্যান্য সংগঠন গুলি। ভারত ভুক্তির চুক্তি রুপায়নের দাবিতে নতুন মঞ্চ তৈরি করে এক সাথে আন্দলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে জলপাইগুরি জেলার ময়নাগুড়ির রাজারহাটে  একটি গোপন বৈঠক করে একটি মঞ্চও তৈরি করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভুমি পুত্র ঐক্য মঞ্চ’। এই মঞ্চের সভাপতি করা হয়েছে গ্রেটার নেতা তথা রাজবংশী উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বংশীবদন বর্মনকে। সহ সভাপতি করা হয়েছে কেপিপি নেতা অতুল রায়কে। এছাড়ও ওই নতুন মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে গ্রেটার নেতা গিরিজা শঙ্কর রায় ও কেপিপি নেতা উত্তম রায়কে।

Top News

এই নতুন মঞ্চ গড়ে উত্তরবঙ্গ জুড়ে আলাদা রাজ্যের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন গুলিকে এক সাথে নিয়ে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছে মঞ্চের নেতৃত্বরা। এই নতুন মঞ্চের নেতৃত্বের কথায়, আলাদা রাজ্যের দাবি ও ভারত ভুক্তির চুক্তির রুপায়নের দাবিতে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গিয়েছে। শুরুতে বংশীবদন বর্মণের নেতৃত্বে থাকা গ্রেটার কোচবিহার পিপলস এ্যাসোসিয়েশন ও কেপিপির নিখিল রায় গোষ্ঠীকে নিয়ে এই নতুন মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে অন্যান্য সংগঠনকেও এই মঞ্চের সাথে যুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে ছোট ছোট খুলি বৈঠক করে আলাদা রাজ্যের দাবিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হয়েছে বলে সুত্রের খবর।

উত্তরবঙ্গের আট জেলার সমতল এলাকায় আলাদা আলাদা রাজ্য গঠনের দাবি নিয়ে পৃথক আন্দোলনের ডাক দিল কামতাপুর পিপলস পার্টি, কামতাপুর প্রোগ্রেসিভ পার্টি এবং গ্রেটার কোচবিহার পিপলস পার্টি। প্রথম দু’টি দলের দাবি, পৃথক কামতাপুর রাজ্য। তৃতীয়টির দাবি আলাদা কোচবিহার রাজ্যের।

পৃথক কোচবিহার রাজ্যের দাবি ঘিরে ২০০৫ সালে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে কোচবিহার। ২০০৫-এর ২০ সেপ্টেম্বর আলাদা রাজ্যের দাবিতে জেলাশাসকের অফিস  ঘেরাও অভিযানের ডাক দিয়েছিল গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন। ভেটাগুড়ি, ঘুঘুমারি, খাগড়াবাড়ি থেকে জমায়েত হওয়া কয়েক হাজার সমর্থকের মিছিল মাঝপথেই আটকে দিয়েছিল পুলিশ। এর  প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন বংশীবদন বর্মন ও তার দলের সমর্থকরা। এরপর দু’পক্ষের হাতাহাতি থেকে পুলিশের গুলি। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন খাগড়াবাড়ির গ্রেটারের দুই সমর্থক বিসাদু বর্মন ও চিত্ত রায়। নিহত হয়েছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও দুই পুলিশ কর্মী। পুলিশ খুন-সহ একাধিক অভিযোগে বংশীবদন-সহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। বংশীবদনবাবু আত্মসমর্পণ করে জেলে যান। দীর্ঘ দিন জেলে থাকার পর ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার ক্ষমতায় আসার পর জামিনে ছাড়া পান বংশীবদন বর্মন। পৃথক রাজ্যের দাবিতে সেসময় অশান্ত হয়ে ওঠে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলেও। অসমের কোকরাঝাড়ে পৃথক বড়োল্যান্ডের দাবিতে সমাবেশ ও আন্দোলন শুরু হয়। বড়োদের যৌথ মঞ্চের দাকে ৬০ ঘণ্টার অসম বন্ধের ডাক দেওয়া হয়। পৃথক কার্বিল্যান্ডের দাবিতে জ্বলতে শুরু করে কার্বি আংলংও।

জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে কুড়িটিরও বেশি নতুন রাজ্য গঠনের আবেদন জমা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে। এক কর্তা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সংগঠনের তরফে ওই আবেদনগুলি জমা পড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিম ভারতে মহারাষ্ট্র ভেঙে বিদর্ভ, গুজরাত ভেঙে সৌরাষ্ট্রের মতো রাজ্য গড়ার দাবি। পূর্ব ভারতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নতুন তিনটি রাজ্য গঠনের দাবির সঙ্গে রয়েছে বিহার-ঝাড়খণ্ডের এলাকা নিয়ে মিথিলাঞ্চল, বিহার-উত্তরপ্রদেশ-ছত্তীসগঢ়ের এলাকা নিয়ে ভোজপুর, ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড-ছত্তীসগঢ়ের এলাকা নিয়ে কোশল রাজ্য গড়ার দাবি। উত্তর-পূর্বে বড়োল্যান্ড, কার্বিল্যান্ড, পূর্ব নাগাল্যান্ড, কুকিল্যান্ডের মতো বেশ কিছু রাজ্যের দাবি রয়েছে। অজস্র ছোট ছোট রাজ্যের দাবি দক্ষিণ ভারতেও। তামিলনাড়ু-কেরল-কর্নাটকের এলাকা নিয়ে কঙ্গুনাড়ু, কর্নাটক-কেরলের এলাকা নিয়ে তুলুনাড়ু, কর্নাটক ভেঙে আলাদা কুর্গ রাজ্যের দাবি তার অন্যতম। উত্তরপ্রদেশ-মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থানের এলাকা নিয়ে ব্রজপ্রদেশ গঠনের দাবি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, মায়াবতীর জমানায় একমাত্র উত্তরপ্রদেশ সরকারই নিজে থেকে রাজ্য ভাগ করার (চার ভাগে) প্রস্তাব দিয়েছিল।

তবে, নতুন করে আলাদা রাজ্যের দাবিতে গড়ে ওঠা ভুমি পুত্র ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক গিরাজা শঙ্কর বাঁয় বলেন, “আমারা দীর্ঘ দিন থেকে কোচবিহারবাসীর ভারত ভুক্তির চুক্তির বাস্তব রুপায়নের দাবিতে আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেই আন্দোলন চলবে। পাশাপাশি আমরা উত্তরবঙ্গের ভুমিপুত্রদের নিয়ে একটি মঞ্চ তৈরি করেছি।  এই মঞ্চের মাধ্যমে প্রয়োজনে ভুমি পুত্রদের নিয়ে ঐক্য বদ্ধ আন্দোলনে নামবো।