রাজনীতি করতে মেধা ও মস্তিষ্ক লাগেঃ লিখছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়ঃ প্রাক্তন ফরোয়ার্ড ব্লক মন্ত্রী পরেশ অধিকারী যখন তৃণমূলে নিজের রানৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন–তখন আমি কয়েকটা পোস্ট আপলোড করেছিলাম। আমার লেখা যাঁরা নিয়মিত ফলো করেন তাদের মনে পড়তে পারে–আমি বলেছিলাম পরেশ অধিকারী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হবেন। ৪৮ ঘন্টা আগে আমি কোচবিহার প্রার্থী রহস্য শীর্ষক যে লেখাটা পোস্ট করেছিলাম তাতে পরেশ অধিকারীর নাম উচ্চারণ করি নি। বিশেষ কারণেই ঐ নামটিকে আলোচনার বাইরে রাখতে হয়েছিল। জেলা জুড়ে তুমুল জল্পনা চলেছে বেলা সাড়ে তিনটের আগের মুহূর্তেও। তৃণমূল মহলে জোর চর্চা চলছিল জলপাইগুড়ির সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মণ, বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ, অর্ঘ্য রায়প্রধানের নাম নিয়ে। এই সব নামের আড়ালে চলে গিয়েছিল পরেশ অধিকারীর নাম।

Top News

হ্যাঁ, আমি জানতাম সেই মুহূর্ত থেকে যে মুহূর্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা পরেশ অধিকারী গ্রহণ করেন। পতাকা হাতে নেওয়ার আগে প্রদীপের সলতে পাকানোর মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার থাকে–যার মধ্যে নির্দিষ্ট হয়ে যায় পতাকা বদলের ভবিষ্যৎ কার্য্যক্রম। এগুলো খুবই গোপন সিদ্ধান্তের বিষয়।
পরেশ অধিকারীকে নিয়ে লেখা আমার পোস্ট একদিন ফেসবুক ফিরিয়ে দেবে–আমি যথাসময়ে শেয়ার করব। এখন সে বৃত্তান্ত থাক।

খারাপ লাগছে রবিবাবুরই আবিষ্কার যুবনেতা পার্থপ্রতিম রায়ের জন্য। আজ সকাল পর্যন্ত তাঁর এবং তাঁর বন্ধু-অনুগামীদের ২০০% নিশ্চয়তা ছিল তিনিই প্রার্থী হবেন। তার মানে এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যুবনেতার সূত্রগুলো হয় জোরালো ছিল না অথবা তাকে ইচ্ছাকৃতভাবেই অলীক স্বপ্ন দেখিয়েছে। তালিকা প্রকাশের সময়ে নেত্রী বলেছেন–‘‘ওকে আমরা কাজে লাগাব–যদি ও দলে থাকে !’’ কোন সঙ্কেত না থাকলে কেন এ কথা তিনি বললেন তা সহজেই অনুমেয়।

রাজনীতি যে শুধুমাত্র অন্ধ আবেগ ও প্ররোচনার উত্তেজনা দিয়ে হয় না–মেধা ও মস্তিষ্ক লাগে–এটা যুবনেতাকে বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে বোঝাবার মতো কোন বন্ধু এবং অনুগামী ছিল না–থাকলে এভাবে তাঁকে অপ্রাসঙ্গিক হতে হত না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে অস্থিরতা শেষপর্যন্ত ক্ষতির কারণ হয়েই থাকে। পার্থপ্রতিমের দোষ একটাই–প্ররোচনার ফাঁদে পা দিয়ে উত্তেজনার শিকার হওয়া। এ ছাড়া আর কোন দোষ আমি অন্ততঃ দেখি নি !

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পেরেছেন–সুতরাং তাঁর দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। লোকসভার পরে দেখতে দেখতে বিধানসভার ভোট এসে যাবে। সাংগঠনিক ভাবে জেলাকে ঢেলে সাজাতে হবে তাঁকে। এখন তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতীয় জনতা পার্টি। এই বিষয়টাকে তিনি যে পাখির চোখ হিসেবে দেখবেন সে ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই !!