কালী মায়ের লক্ষ লক্ষ টাকার অলঙ্কার চুরি মাথাভাঙায়, চাঞ্চল্য

কাজল রায়, মাথাভাঙ্গাঃ ঘরে এনে রাখা কালী মায়ের মন্দিরের লক্ষ লক্ষ টাকার অলঙ্কার, বেশ কিছু সামগ্রী সহ নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতি। গতকাল সন্ধ্যায় মাথাভাঙা শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ওই চুরির ঘটনা ঘটে। শুধু তাই এদিন দুপুরে মাথাভাঙা মহকুমা শাসক দফতরের এক কর্মীর মোটর সাইকেল অফিসের সামন থেকে চুরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ। একই দিনে পরপর দুটি চুরির ঘটনায় মাথাভাঙা শহরে ব্যপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একই দিনে দুই চুরির ঘটনা ঘটায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেক বাসিন্দাই। যদিও মাথাভাঙা থানার আইসি প্রদীপ সরকার ওই দুই চুরির ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

Top News

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম চুরির ঘটনা ঘটে মাথাভাঙা মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে। ওই অফিসের কর্মী ভাস্কর চক্রবর্তীর মোটর সাইকেল সেখান থেকে চুরি হয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যায় শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রমেন কুমার ভট্টাচার্যের বাড়িতে দ্বিতীয় চুরির ঘটনা ঘটে। বাড়ি সংলগ্ন পারিবারিক মন্দির রয়েছে রমেনবাবুদের। সিদ্ধেশ্বরী জংলী কালী মন্দিরে পূজার্চনার কাজ নিজেই করেন রমেন বাবু। এদিন সন্ধ্যায় সেই পূজা দিতে মন্দিরে যান তিনি। তাঁর স্ত্রী বাজার করতে বেড়িয়ে যান। পূজার কাজ সেরে ঘরে ঢুকে রমেন বাবু দেখেন আলমারি খোলা। চোখের চিকিৎসার জন্য রাখা নগদ ১০ হাজার টাকা সেখান থেকে উধাও। নেই পুরানো দিনের দুটি ঘড়ি। এরপরেই খোঁজ নেন লকারের। কিন্তু লকারের চাবি যথাস্থানে নেই। দেখেন খোলা অবস্থায় রয়েছে লকার। সেখান থেকে কালী মায়ের ডায়মন্ড বসানো সোনার মুকুট,চূর,মালা নাকের নত, নূপুর রুপোর জবা ফুল সহ বেশ সোনা ও রুপার অলঙ্কার উধাও। ভট্টাচার্য পরিবারের দাবী সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার অলঙ্কার ছিল সেখানে। মন্দিরে সুরক্ষিত নয় ভেবে তারা ঘরের ভিতরে লকারে রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে রেখেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারলেন না।

রমেন বাবু বলেন, “পুলিশকে সমস্ত ঘটনা জানানো হয়েছে। তারা তদন্ত করতে এসেছিলেন। চুরি যাওয়া কালী মায়ের সমস্ত সামগ্রী ফিরে পেতে পুলিশের উপরে ভরসা করা ছাড়া আমাদের আর কিবা করার আছে?”