দিনহাটায় বাল্য বিবাহ রুখে দিল কন্যাশ্রী সংঘের ছাত্রী 

দিনহাটা, ১৭ এপ্রিলঃ  ফের সহপাঠীর বিয়ে আটকে দিল কন্যাশ্রী সংঘের এক ছাত্রী। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের শুকারুর কুঠির বাসিন্দা রঞ্জিত বর্মণ। আজ তাঁর মেয়ে বিপাশার (আসল নাম নয়) বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করে ফেলেছিলেন। বাড়িতে প্যান্ডেলও করা হয়েছিল। কিন্তু লেখাপড়া ছেড়ে বিয়েতে বসছে জেনে বিপাশার সাথে দেখা করতে যায় দিনহাটা নয়ারহাট হাইস্কুলের কন্যাশ্রী সংঘের এক ছাত্রী। বিপাশার সাথে কথা বলে গিয়ে ওই ছাত্রী বুঝতে পারে সে আরও লেখাপড়া করতে চায়। আর তাই দেরি না করে সংলগ্ন সিডিপিও ব্লক দফতরে এসে ঘটনার কথা জানায় কন্যাশ্রী সংঘের ওই ছাত্রী। এরপরেই শুরু প্রশাসনিক তৎপরতা।

Top News

প্রথমে কন্যাশ্রী সংঘের ওই ছাত্রীর কাছ থেকে তাঁর সহপাঠীর নাম ঠিকানা নিয়ে নেয়। তারপর সিডিপিও দফতর ও ব্লক প্রশাসন লোক পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন ১৬ বছর বয়সেই বিপাশার বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যে সে দুই দফায় কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে ৫০ হাজার টাকা পাবে। এছাড়াও ১৮ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়া হলে রুপশ্রী প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে পারে বলে প্রশাসন বিপাশার পরিবারকে জানায়। প্রথম দিকে রাজী না হলেও শেষ পর্যন্ত মেয়ের বাবা রঞ্জিত বাবু ১৮ বছর বয়স হলেই মেয়ের বিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।

একটি মুচলেকা তিনি লিখে জানান, “ভুলবশত ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই মেয়ের বিয়ে দিচ্ছিলাম। এখন বিষয়টি জানার পর বিয়ে স্থগিত রাখলাম। ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবো না বলে অঙ্গীকার করলাম।”

বাবা মায়ের সামনে খুব বেশী কিছু বলে নি বিপাশা। তবে ওর সহপাঠী যে খুশি সে ব্যাপারে নিশ্চিত কন্যাশ্রী সংঘের সেই ছাত্রী। নাম গোপন রাখার শর্তে সেই ছাত্রী জানায়, এর আগে শুনেছি কোচবিহারে অনেক কন্যাশ্রী সংঘ থেকে দল বেঁধে গিয়ে বাল্য বিবাহ রুখে দিয়েছে। তাই দেখে উৎসাহিত হয়ে আমি আমার সহপাঠীর বিয়ে রুখে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। এখন ও স্কুলে আসতে পারবে, তাতেই আমি খুশি।