২০১৯-এ কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র কার! একনজরে দেখে নিন এই কেন্দ্রে ভোটের ইতিহাস

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ দেশের ১৭ তম লোকসভা নির্বাচন আর মাত্র হাতে দুটি দিন। ইতি মধ্যেই যুদ্ধ শুরু হয়েছে বাংলায় প্রথম দফায় ভোট হচ্ছে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সমীক্ষায় আভাস এসেছে, এই দুই কেন্দ্রে কী ফলাফল হতে চলেছে। কেউ বলছে বিজেপি জয়ী হবে আবার কেউ বলছে তৃণমূল জয়ী হবে। তবে কী ছিল এই দুই কেন্দ্রের ভোট ইতিহাস। ১১ এপ্রিল ভোট হবে, তারপর মিলবে ২৩ মে চূড়ান্ত ফল। তাই আমরা আজ কোচবিহার লোকসভার ইতিহাস নিয়ে আলচনা করব।

Top News

১৭ তম লোকসভা নির্বাচন দেশের ৫৪৩ টি লোকসভার কেন্দ্রের মধ্যে এক নম্বর লোকসভা কেন্দ্র কোচবিহার। সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি। কোচবিহারের মধ্যে রয়েছে মাথাভাঙা, কোচবিহার উত্তর, কোচবিহার দক্ষিণ, শীতলকুচি, সিতাই, দিনহাটা ও নাটাবাড়ি। এর মধ্যে কোচবিহার বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া বাকি ৬ টি কেন্দ্র তৃণমূলের দখলে।

ইতিহাস থেকে আমরা জানার চেষ্টা করি। তাহলে শুরু করতে হবে ১৯৫১ থেকে ১৯৭১- এই ২০ বছরে লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল কংগ্রেস ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে। ১৯৫১ সালে উত্তরবঙ্গে তিন আসনের দখল ছিল কংগ্রেসের দখলে। সাংসদ ছিলেন উপেন্দ্রনাথ বর্মন, বীরেন্দ্রনাথ কথাম ও অমিয়কান্ত বসু। ১৯৫৭ সালে কংগ্রেসের উপেন্দ্রনাথ বর্মন ও সন্তোষ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক ছিনিয়ে নেয় এই আসনটি। সাংসদ হন দেবেন্দ্রনাথ কার্জি। পরের বছরই উপনির্বাচনে জয়ী হল কংগ্রেসের পিসি বর্মন। ১৯৬৭ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের বিনয়কৃষ্ণ দাসচৌধুরী হন সাংসদ। ১৯৭১ সালে ফের কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তিনিই সাংসদ নির্বাচিত হন।তারপর ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৯-এর মধ্যে আটটি লোকসভা নির্বাচন হয়েছে। আটটি নির্বাচনেই এই কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। টানা আটবার অমরেন্দ্রনাথ রায়প্রধান এই কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। কোচবিহার বরাবরই ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত গাঁটি ছিল। তার প্রমাণ এই জয়ের ধারা। মোট কথা বাম আমলে এই কেন্দ্রে দাঁত ফোটাতে পারেনি ডানপন্থী শক্তি।

২০০৪ থেকে ২০১৪- এর মধ্যে মোট ৩টি নির্বাচন হয়েছে কোচবিহার কেন্দ্রে। ২০০৪ ও ২০০৯-এ এই কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী। নৃপেন্দ্রনাথ রায় সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপরই ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তন ঘটে। বামফ্র্ন্ট শাসনের অবসান হয়। তারপর ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হন তৃণমূলের রেণুকা সিনহা। ২০১৪ নির্বাচনের ফলে কোচবিহার কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের রেণুকা সিনহা। তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের দীপককুমার রায়কে ৮৭,১০৭ ভোটে হারিয়েছিলেন। তৃতীয় হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী হেমচন্দ্র বর্মন। তৃণমূলের রেণুকা সিনহা পেয়েছিলেন ২,১৭,৬৫৩ ভোট। আর কংগ্রেস প্রার্থী কেশবচন্দ্র রায়ের প্রাপ্ত ভোট ৭৪,৫৪০। তারপর বেণুকা সিনহার অকাল প্রয়ানে ২০১৬ সালে ফের উপনির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস। সাংসদ হন পার্থপ্রতীম রায়।

২০১৬ উপনির্বাচনের এই কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের পার্থ প্রতীম রায়। তিনি বিজেপির হেমচন্দ্র বর্মনকে ৪ লাখেরও বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭,৯৪,৩৭৫ ভোট। বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩,৮১,১৩৪ ভোট। তৃতীয় ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী নৃপেন্দ্রনাথ রায় পেয়েছিলেন ৮৭,৩৬৩ ভোট। আর কংগ্রেস প্রার্থী পার্থপ্রতীম ইসর পেয়েছিলেন ৩৩, ৪৭০ ভোট।

এবার ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচন। যদিও তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী তথা প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়কে টিকিট দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বাম সরকারের খাদ্যমন্ত্রী তথা ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পরেশ অধিকারী। মজার ব্যাপার এই কেন্দ্রে  বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যাকে বহিষ্কার করেছেন তিনি হলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক নিশীথ প্রামাণিক। এছাড়াও রয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী গোবিন্দ রায় ও কংগ্রেস প্রার্থী প্রিয়া রায়চৌধুরী।মুলত এই কেন্দ্রে বিজেপি বনাম তৃণমূল কংগ্রেস যে লড়াই হচ্ছে তা সকলের জানা। এই আসনটিকে নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় বা রাজ্যের বড় বড়  হ্যাবিওয়েট নেতারা সভা করছেন। তাঁর পাশাপাশি পিছিয়ে নেই তৃনমূলও। একের পর এক সভা করে যাচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্বরা। এই কেন্দ্র নিয়ে ইতি মধ্যে দুই দুটি সমীক্ষাও হয়েছে আপনারা জানেন। সেই দুটি সমীক্ষায় কিন্তু একবার তৃণমূল প্রার্থী পরেশ অধিকারীকে জয়ী দেখিয়েছিলেন। পড়ে আর একবার বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিককে জয়ী দেখিয়েছিলেন। সেয়ানে সেয়ানে যে লড়াই চলচ্ছে  এর থেকে স্পষ্ট বোঝাই যায়। এমনকি দুই দলের প্রার্থীকে জেতাটে একই মাঠে ৭ ও ৮ তারিখ নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করলেন। যাক এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ১১ এপ্রিল ভোট। আর তাঁর ফলাফল হল ২৩ মে। সেই দিনটির অপেক্ষায় রইলাম সকলে। ফলাফলে কে জয়ী হয় শেষ পর্যন্ত।