কৃষ্ণগঞ্জ গুলি কাণ্ডে উদ্বেগ কোচবিহারেও, সীমান্তের সভায় বাড়তি নিরাপত্তা চান তৃণমূল বিধায়ক

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে গুলি করে খুন করার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কোচবিহারের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় রাজনৈতিক বা সরকারি অনুষ্ঠানে গেলে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত বলে অনেকেই মনে করছেন। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকে জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে বলতে না চাইলেও গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় দলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে যে পরিমাণ অস্ত্র এই জেলায় মজুত হয়েছিল, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার করতে না পারলে অঘটন ঘটার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। যদিও কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা এর আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেছিলেন, লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার আগেই জেলাকে তিনি অস্ত্র মুক্ত করবেন। তারপরে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ অস্ত্র উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে পুলিশ। কিন্তু সেটা যে পর্যাপ্ত নয়, তা অন্তত জনপ্রতিনিধিদের জানা রয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের অবশ্য দাবি, কোচবিহারের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যাঁদের নিরাপত্তা পাওয়ার কথা তারা ঠিকই পাচ্ছেন। এছাড়াও অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে ডিআইবি রিপোর্ট মেনে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Top News

সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ রায় বসুনিয়া প্রয়াত বিধায়ক সত্যজিৎ তাঁর পাশের আসনে বসতেন বলে জানান। তাঁর ওই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের একজন করে নিরাপত্তা রয়েছে ঠিকই। কিন্তু আমআর বিধানসভা এলাকার বেশীর অংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। কিছু কিছু সীমান্তে চোরাচালানকারী ও দুষ্কৃতীদের আধিপত্য রয়েছে। তারা যে কোন সময় যা খুশি করে দিতে পারে। তার জন্য সেখানে রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মসূচীতে গেলে নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি।” অন্য এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এই জেলায় যে ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকেছে। তার বেশীর ভাগটাই এখনও রপুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় নি। যা যথেষ্ট উদ্বেগের।” অবশ্য কোচবিহার দক্ষিন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী প্রথম থেকেই পুলিশের দেওয়া নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সাথে নিরাপত্তা থাকলেও ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়া, রাস্তার যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে নেমে পড়া যথেষ্ট উদ্বেগের বলে অনেকেই মনে করেন। কিছুদিন আগে দেওয়ানহাট এলাকায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাস্তায় নেমে পড়লে তাঁকে হেনস্থা করা হয়। ওই সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো বলেও অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন। যদিও রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “সত্যজিৎ বিশ্বাসকে গুলি করে বিজেপির সুপারি কিলাররা খুন করেছে। কোচবিহারে বিজেপি এসব করতে আসলে মানুষই ওদের প্রতিহত করবে।”

পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই গুলি বোমার রমরমা কোচবিহারে। মূলত দিনহাটা, কোচবিহার ১ ও ২ নম্বর ব্লক এলাকায় প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার চেষ্টা হয়। এরমধ্যে হ্যান্ড ম্যাড দেশী পিস্তল, ৬,৬৫ এমএম থেকে নাইন এমএম, কার্বাইন গানের মত অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। অনেকেই সেই সব অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছেন। এরমধ্যে পুলিশ উদ্ধারও করেছে প্রচুর অস্ত্র। কিন্তু এখনও কোচবিহার জেলা পুরোপুরি আগ্নেয়াস্ত্র মুক্ত নয়, তার দাবি করা বোধ হয় খুব একটা ভুল হবে না। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় নিজেদের গোষ্ঠী কোন গোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখবে, তার জন্য ওই অস্ত্র মজুত করা হলেও এখন ওই অস্ত্র বিরোধীদের হাতে চলে যাওয়া বা বিক্ষুব্ধদের কাজে লাগিয়ে কোন অশান্তি তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে অনেক তৃণমূল নেতাই মনে করছেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেতাদের ওই উদ্বেগ দেখে কোচবিহারের অনেক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা জানিয়েছেন, “পঞ্চায়েতে তৃণমূলের নিজদের গোষ্ঠী কোন্দল তো ছিলই। বিরোধীদের উপরেও ওই অস্ত্র ব্যবহার করে পঞ্চায়েতে ত্রাস তৈরি করা হয়েছিল। এখন নিজেদের আমদানি করা অস্ত্রে নিজেরাই ভয় পাচ্ছে।”