অসুস্থ পথ কুকুরদের সুস্থ করার তাগিদই মিলিয়েছে মধুমিতাদের

চন্দন দাস, কোচবিহার: কলেজ থেকে ফেরার অসুস্থ একটি কুকুর দেখে তার চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন মধুমিতা। কিন্তু কে করবে রাস্তায় পড়ে থাকা অসুস্থ ওই কুকুরের চিকিৎসা। খুঁজতে খুঁজতে ঠিকানা মেলে কোচবিহার অ্যানিম্যাল রেসকিউ সেন্টারের। তাঁদের সাথে কথা বলে রাস্তার সেই অসুস্থ কুকুরকে উদ্ধার করে কোচবিহার শহরের নিত্যানন্দ আশ্রম ঘাট সংলগ্ন ওই রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর কিছুদিন চিকিৎসা করানোর পর একটু সুস্থ হতেই ফের নিজের এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া হয় ওই কুকুর টিকে। সেই থেকেই কোচবিহার শহরের চালতাতলা এলাকার বাসিন্দা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মধুমিতা দাস অ্যানিম্যাল রেসকিউ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

Top News

শুধু মধুমিতায় নন, ওই অ্যানিম্যাল রেসকিউ সেন্টারের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন ছাত্র ও যুবক জড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেক দিনের কাজ রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পথ কুকুরদের খাওয়ানো, তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া, জ্বর, সর্দি কাশী, পেটের সমস্যা সহ নানা অসুস্থাতার জন্য চিকিৎসা করানো। কোন বড় ধরনের অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়া ওই রাস্তার কুকুরদের তুলে নিয়ে সেন্টারে রেখে চিকিৎসা করানো। কখনও সরকারি প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, চিকিৎসার পাশাপাশি ভ্যাকসিনেশন করানো সহ সমস্ত কিছুই করে থাকেন ওই সেন্টারের স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া ছাত্রযুবরা।

ওই সেন্টারের সঙ্গে জড়িত সম্রাট বিশ্বাস বলে যুবক জানিয়েছেন, মধুমিতার মত এই অ্যানিম্যাল রেসকিউ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন পূর্ণিমা বিশ্বাস। তার কাজ প্রত্যেক দিনের রান্না করা। এছাড়াও বিষ্ণু বিশাস,পিন্টু ঘোষ, অলক চক্রবর্তী, বাসুদেব মহন্ত, পঙ্কজ বিশ্বাস, প্রকাশ সিংহ, সম্রাট বিশ্বাস, সুশান্ত রায়, চন্দন ভগতরা টোটোতে খাবার নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে রাস্তার কুকুর গুলোর অন্ত্যত পক্ষে এক বেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। সামান্য কারণে অসুস্থ হলে শঙ্কর পাল নিজেই চিকিৎসা করান।

ওই সংস্কারের সঙ্গে জড়িত শঙ্কর পাল বলেন, “ আমি ১৮ বছর ধরে রাস্তার কুকুরদের নিয়ে কাজ করে আসছি। বছর খানেক হল এই অ্যানিম্যাল রেসকিউ সেন্টারের সূচনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমাদের সঙ্গে ১১ জন যুক্ত হয়ে গিয়েছেন। সকলে মিলে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু রাস্তার কুকুর নয়, অন্যান্য পশু পাখিদের উদ্ধারের কাজ এই সেন্টার থেকে করা হয়ে থাকে।” মধুমিতা বলেন, “ অনেক সংস্থা আছে, যারা মানুষের জন্য কাজ করে থাকে। অসহায় মানুষ গুলো তাঁদের সমস্যার কথা ওই সংস্থা গুলোকে বলতে পারেন। কিন্তু অসহায় পশুরা তাঁদের যন্ত্রণার কথা মানুষের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। তাই এদের নিয়ে কাজ করা আমার কাছে অনেক বেশী প্রাধান্য পেয়েছিল। আজ কাজ করতে পারছি বলে ভালো লাগছে।”