কোচবিহার: জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধান কার্যালয় দিনহাটা। শোনা যায় এক সময় মুকুল রায় তাঁর অনুগামীদের দিয়ে ওই দল গঠন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মূল দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাল হয়ে যাওয়ায় ওই দল সে ভাবে আর প্রস্ফুটিত হয় নি। কিন্তু ফের মুকুল রায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্কে চির ধরেছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ওঠায় জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসের নাম উঠে এসেছে।দিনহাটার থানা পাড়ায় যার বাড়িতে জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয় গড়ে উঠেছিল, সেই মনোজিৎ সাহা চৌধুরী নিজেকে এক সময়ের মুকুল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বলে দাবী করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি মুকুল রায়ের উপড়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। এদিন সেই ক্ষোভই উগরে দিয়েছেন তিনি।

Top News

ফের মুকুল রায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এদিন মনোজিৎ বাবু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “মুকুল রায়ের নির্দেশেই জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস গড়া হয়েছিল। আর সেই দলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে আমার দিনহাটার বাড়ি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু দল গড়ে ওঠার পর ফের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে মুকুল বাবুর সম্পর্ক ভালো হলে আমাদের সঙ্গে আর সেভাবে যোগাযোগ রাখেন হয়নি। এমনকি কুচবিহারে আসলেও আমার সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করে নি। এখন উনি আবার তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন বলে জানতে পারছি।কিন্তু এবার উনি যাই করুন না কেন, আমি আর তার মধ্যে থাকছি না।” তবে মুকুল রায় তৃণমূল ছাড়লে তাঁর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কেউ সঙ্গী হবেন কিনা, তা নিয়ে রীতিমতো জল্পনা শুরু হয়েছে। পূজার পরেই মুকুল রায় হয় নতুন দল গড়ছেন, নতুবা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে রাজ্য জুড়ে খবর চাউর হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দলীয় সুত্রে খবর, শুধু কোচবিহারেই নয়, উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও অনেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কর্মী রয়েছেন, যাঁদের সাথে মুকুল রায়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এরমধ্যে পুরানো তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের সংখ্যাই বেশী।তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না চাইলেও গোপনে দাবী করেছেন, নব্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের দাপটে এখন আর দলে পুরানোদের সেভাবে গুরুত্ব নেই। তাই গুরুত্বহীন হয়ে না থেকে ফের মুকুল সঙ্গী হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন তাঁরা।