মজবুত সংগঠন না আবেগ, পরেশ- নিশীথের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় নিয়ে জল্পনা

রাজীব বর্মন, কোচবিহারঃ মানুষের রায় কড়া নিরাপত্তায় বন্দী ইভিএমে। আর বাইরে অফিস কাছারি থেকে চায়ের দোকান, এমনকি খাবার টেবিলেও জল্পনা ভোট কে হবে জয়ী? কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র তৃণমূলের দখলেই ছিল। তবে উপ নির্বাচনে জয়ী সাংসদ পার্থ প্রতিম রায়কে প্রার্থী করেনি দল। প্রার্থী হয়েছেন সদ্য ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে আসা পরেশ অধিকারী। আর তাই তৃণমূল কে অনেক বেশী ঝুঁকি নিতে হয়েছে। কিন্তু তাতে কি দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে লড়াই করেছেন জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কাজেই জয় নিয়ে তাঁদের ভাবনা নেই বলে দাবী তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের। অন্যদিকে বিজেপিও এবার কোচবিহার আসনে জয় পাওয়া স্বপ্নে বিভোর। তাঁদের দাবী, ছাপ্পা রিগিং করে তৃণমূল চেষ্টা করেছে বটে। তবুও জয় বিজেপিরই হচ্ছে।

Top News

বিজেপি নিয়ে এবার কোচবিহার কেন্দ্রে ব্যাপক আবেগ দেখা গিয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোচবিহারে এসে সভা করেছেন। উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল রাসমেলার মাঠে। রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কে ঠেকিয়ে দিতে সব থেকে আপ্রান লড়াই দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী সমর্থকরা। অন্যদিকে সাংগঠনিক মজবুত ভিত নিয়ে লড়াই দিয়েছেন তৃণমূল সৈনিকরা। একদিকে দলের জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মত নেতৃত্ব আর বুথ স্তর অব্দি সংঘবদ্ধ কর্মী। আবেগ আর মজবুত সাংগঠনিক ভিতের মধ্যে কার জয় হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা খুব মুশকিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলের বিধায়ক ও ব্লক সভাপতিদের সাথে আলোচনায় বসেছেন। খোঁজ নিয়েছেন বুথে বুথে থাকা নিজস্ব লোকজন দিয়ে। তারপর নিশ্চিত হয়ে বলেন, “আমাদের বুথস্তর পর্যন্ত মজবুত সংগঠন। এজেন্ট থাকা থেকে শুরু করে ক্যাম্প করা প্রত্যেকটি বুথে হয়েছে। বিজেপি তো বহু বুথে এজেন্ট দেওয়ার লোক পায় নি। আর কেউ দিবাস্বপ্ন দেখলে আমার কি করার আছে। তবে ওরা মুখে বললেও আসলে ভোটের দিন দুপুরেই হেরে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বুথ গুলো থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে শহরের এসে ধর্নায় বসেছিল।” অন্যদিকে বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি মালতি রাভা বলেন, “আমরা জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত। তৃনমূল আশায় থাকুক। ২৩ মে ওঁদের আশা ভঙ্গ হবেই হবে।”

৯ ব্লক ও ৩টি পুরসভা নিয়ে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র। বরাবর শহরে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোট হয়। এবারও কোচবিহার, মাথাভাঙা ও দিনহাটা শহরে প্রতিষ্ঠান বিরোধী রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী ভোট পড়ার সম্ভাবনা বেশী। আর সেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোটে ভাগ বসাতে পারে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসা বিজেপি। অন্যদিকে ৯ ব্লকের গ্রামীন এলাকা গুলোতে তৃণমূলের যথেষ্ট শক্তিশালী সংগঠন রয়েছে। নির্বাচনের দিন সেই শক্তিশালী সংগঠন থাকার জেরেই বিরোধীরা সন্ত্রাস, ছাপ্পা, রিগিং বুথ জ্যাম সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলতে বাধ্য হয়েছে। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “রাজনৈতিক দল গুলোর ভোট করানোর একটা পদ্ধতি রয়েছে। সেটা গ্রামে যাঁদের কর্মী রয়েছে। যারা সারা বছর এলাকার মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখেন। তারাই এই ভোট করাতে পারেন। সেটা এখন তৃণমূল ছাড়া আর কারুর নেই। কাজেই অন্য কেউ জেতার স্বপ্ন না দেখাই ভালো।” অন্যদিকে বিজেপির এক নেতার কথায়, “২০১১ সালে বামকে হটিয়ে যখন তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। তখন তাদেরও গ্রামস্তর পর্যন্ত সংগঠন ছিল না। তাই এসব যুক্তি খুব একটা খাটে না। ঝড় যখন আসে সব কিছু খড়কুটোর মত উড়ে যায়।”

২৩ মে সব কেন্দ্রের সাথে কোচবিহারেও গণনা হবে। আবেগের ঝড় তৃণমূলকে খড়কুটোর মত উড়িয়ে নিয়ে যায়, না সেই সিমেন্টের বিজ্ঞাপনের মত মজবুত সংগঠনকে ভেঙে ফেলা বিজেপির পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে, সেটা দেখতে এখন প্রায় দেড় মাস অপেক্ষা করতেই হবে।