সরস্বতী উৎসবের দিনে রাজমাতা দিঘীকে নবরূপে উপহার পেল দিনহাটাবাসী

দিনহাটা, ১০ ফেব্রুয়ারিঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দিনহাটা বাসীর জন্য খুলে গেল রাজমাতা দীঘি। রবিবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবরূপে সাজিয়ে তোলা এই রাজমাতা দিঘীর শুভ উদ্বোধন করেন দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান বিধায়ক উদয়ন গুহ। ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনহাটা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শুভময় চক্রবর্ত্তী, কাউন্সিলর অসীম নন্দী, গৌরীশংকর মাহেশ্বরী, সমাজসেবী পার্থ নাথ সরকার, সমাজসেবী অজয় রায়, অপর্ণা দে নন্দী সহ আরো অনেকে।

Top News

এদিনের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ জানান, বাসিন্দাদের সহযোগীতা ছাড়া শহরকে সাজিয়ে তোলা কোনো রকম ভাবেই সম্ভব নয়। গত বছরের প্রথম দিকে এই দীঘি সহ আরো দুটি দীঘি কে নিয়ে প্রথম পর্যায়ের গ্রীন সিটি প্রকল্পের অধীনে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই থানার দীঘি ও মদন মোহন বাড়ি দীঘি সাজিয়ে তুলে দিনহাটা বাসীর জন্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। এদিন এই রাজ মাতা দিঘিকেও সাজিয়ে তুলে দিনহাটা বাসীর জন্যে খুলে দেওয়া হলো। দিনহাটা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, রাজ আমলের এই দীঘিকে সাজিয়ে তুলতে প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ্য টাকা খরচ হয়েছে।

এদিন এই দীঘিকে সকলের জন্যে খুলে দেওয়া হলেও আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এই দীঘি যাতে পরবর্তী কালে ভাঙনের মুখে না পরে সেই জন্যে দীঘির চারপাশে বোল্ডার দিয়ে বাঁধ তৈরি করে দেওয়া হবে বলে উদয়ন বাবু জানিয়েছেন। এনিয়ে  গ্রীন সিটি প্রকল্পের অধীনে প্রথম পর্যায়ের তিনটি দীঘিকে সাজিয়ে তোলার কাজ সম্পূর্ণ হল। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে দিনহাটা শহরের ১০নং ওয়ার্ড এর দোলাবাড়ি দীঘি, বোর্ডিং পাড়া দীঘি, গোপালনগর দীঘি ও কলেজ পাড়া দীঘি কে সাজিয়ে তোলার কাজ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। সেই জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে রাজ্যে কাছে প্রকল্প অনুমোদন পাঠানো হয়েছে। সেই প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ পেলেই দ্বিতীয় পর্যায়ের ওই কাজ গুলি শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান।

দিনহাটা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এই দীঘি। ওই দীঘির পাশে রয়েছে চওড়া হাট বাজার। বেশ কয়েক বছর আগে এই এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই সময় এই দীঘি থেকে জল নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরবর্তীতে নানা ভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দিনহাটা পুরসভার উদ্যোগে এই দীঘিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়।এদিন তা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হল। এই দীঘিটির চারপাশে যেমন বয়স্ক নাগরিকদের জন্যে রয়েছে বসার ব্যাবস্থা, ঠিক তেমনি রয়েছে হাঁটার ব্যাবস্থা। পাশাপাশি শিশুদের জন্যে রয়েছে খেলাধুলার সবরকম ব্যাবস্থা। পাশপাশি চওড়াহাট বাজারে যে কোন রকমের আগ্নিকান্ডে এবার আগুন নেভানোর জলের সমস্যা হবে না বলেও মনে করা হচ্ছে।