কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবীতে ভোটকর্মীদের বিক্ষোভ-অবরোধে উত্তাল কোচবিহার

কোচবিহার, ৫ এপ্রিলঃ নিরাপত্তার দাবীতে ভোট কর্মীদের প্রতিবাদে কার্যত উত্তাল হয়ে উঠেছে কোচবিহার জেলার বিভিন্ন প্রান্ত। কোথাও রাস্তা অবরোধ করে, কোথাও আবার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিতরেই বিক্ষোভ দেখিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন তাঁরা।

Top News

আজ সকালে কোচবিহার শহরের গুঞ্জবাড়ি এলাকায় রামভোলা স্কুলে ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ ছিল। সেখানে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন তাঁরা। যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করা হবে, ততক্ষণ তাঁরা প্রশিক্ষনে অংশ নেবেন না বলে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোন সারা না মেলায় শেষ পর্যন্ত গুঞ্জবাড়ি মোড়ে রাস্তা অবরোধে নামেন ভোট কর্মীরা। ফলে আলিপুরদুয়ার সোনাপুর, ফালাকাটা ও শিলিগুড়ির মধ্যে যাতায়াতকারী বহু যানবাহন আটকা পড়ে রয়েছে। একই ভাবে আন্দোলন শুরু হয়েছে মাথাভাঙা, দিনহাটা ও তুফানগঞ্জে। প্রত্যেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভোট কর্মীরা পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তাঁদের নিরাপত্তার দাবি তুলেছেন।

এদিন রামভোলা স্কুলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আন্দোলনে সামিল পেশায় শিক্ষক এক ভোট কর্মী বলেন, “ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। এবার আর নয়। প্রত্যেক বুথে ৪ জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে হবে। তবেই বুথ কেন্দ্রে যাবো। নতুবা নয়।” অন্য একজন ভোট কর্মীর কথায়, “প্রত্যেক মানুষের জীবন বাঁচানোর অধিকার রয়েছে। আমরা নিশ্চিত মৃত্যু মুখে কেন পরতে যাবো? এর জন্য প্রশাসন বা কমিশন যা করার করবে।”

আন্দোলনকারীদের দাবি, কোচবিহার জেলায় প্রায় আড়াই হাজার বুথ রয়েছে। প্রত্যেক বুথে ৪ জন করে দিতে হলে ১০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। অথচ কোচবিহার জেলায় এখনো পর্যন্ত ৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। ভোটের দিন মোট ২৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে পারে বলে জেলা প্রশাসন এখনো পর্যন্ত জানতে পেরেছে। কিন্তু ওই বাহিনী দিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা হবে না বলে ভোট কর্মীরা দাবি করেছেন।

এদিকে ১১ এপ্রিল কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে নির্বাচন। রাজনৈতিক দল গুলোর প্রচারের টানাপোড়েনে জেরে এমনিতেই ব্যাতিব্যাস্ত কোচবিহার জেলা প্রশাসন। সেখানে ভোট কর্মীদের নিরাপত্তার দাবীতে আন্দোলন প্রশাসন তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার।