রাজবংশী নামক গাছটিকে জল দিয়ে তাজা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের সভায় বললেন বংশীবদন

কোচবিহার, ৮ এপ্রিলঃ ভোটের দুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় হাজির হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশ অধিকারীর হয়ে ভোট চাইলেন বংশীবদন বর্মণ। আজ কোচবিহারে রাসমেলার মাঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী জন সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত থাকাকালীন বক্তব্য রাখেন বংশীবদন বর্মণ। তিনি প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন। মুখ্যমন্ত্রীকে মাননীয়া, দরদিয়া, মরমিয়া হৃদয়ের মুখ্যমন্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। কেন তাঁকে এত উপমা দিলেন, সেটা উল্লেখ করতে বলেন, “ ছিটমহলের যে সমস্যা ছিল। কংগ্রেস আম্লে সেই সমস্যার সমাধান হয় নি। বাম আমলে হয় নি। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তাঁর উদ্যোগে ওই সমস্যার সমাধান হয়েছে। দেশহীন নাগরিকদের দেশ হয়েছে।”

Top News

রাজংবংশীদের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে বংশীবদন বর্মণ জানান, আজ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই রাজবংশী ভাষা একাডেমী হয়েছে। উন্নয়ন পর্ষদ গঠন হয়েছে। এই লোকসভা কেন্দ্রে ৮০ শতাংশ স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছেন। যাদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ রাজবংশী, ২০ শতাংশ মুসলিম ও বাকি অন্যান্য সম্প্রদায় ভুক্ত। তাঁদের এই সংখ্যাকে মূল্যবান চন্দন গাছের সাথে তুলনা করে বংশীবদন বর্মণ বলেন, “কংগ্রেস আমলে এই গাছটিকে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাম আমলে গাছটাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই গাছটিকে জল দিয়ে তাজা করে তুলেছে। তাই এই নির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থী পরেশ চন্দ্র অধিকারীকে ভোট দেওয়ার আবেদন করছি।”

ওই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তোপ দাগতে দেখা যায় বংশীবদন বর্মণকে। তিনি বলেন, “গতকাল এই মাঠে সভা করেন বড় দেওয়ানি রাজবংশীদের গৌরবময় ইতিহাসের কথা বলে প্রনাম করেছেন। কিন্তু শুধু প্রনাম করে কি হবে? গত পাচ বছরে রাজবংশীদের জন্য কি করেছেন উনি?” পাশাপাশি তাঁদের যে মূল দাবি ভারত ভুক্তি চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ দীর্ঘ কয়েক বছর পর মুখ্যমন্ত্রী যেমন ছিটমহল নিয়ে উদ্যোগ নিয়ে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। তেমনি আমাদের এই দীর্ঘদিনের দাবীকেও মুখ্যমন্ত্রী দেখবেন বলে আমার বিশ্বাস।”

গ্রেটার কোচবিহার সংগঠনের একটা অংশ (মহারাজ অনন্ত রায় গোষ্ঠী) প্রথম থেকেই বিজেপির সাথে যুক্ত। আর বংশীবদন বর্মণ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের রাজবংশী উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ভাষা একাডেমীর ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। কিন্তু এবার লোকসভা নির্বাচনে বংশীবদন বর্মণদের ভুমিকা কি হবে? তা নিয়ে এতদিন ধরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গতকাল মোদীর সভায় গ্রেটারের হলুদ পতাকায় ছেয়ে যাওয়ার পর সক্রিয় হয় তৃণমূল নেতৃত্ব। আর আজ বংশীবদন বর্মণ মুখ্যমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত থেকে তিনি যে তৃণমূলের পাশেই আছেন, তার বার্তা দিলেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।