প্রয়োজনে নির্দলকে সমর্থন করার সিধান্ত বামফ্রন্টের

চন্দন দাস, কোচবিহার: দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিতে না পারা আসন গুলোতে নির্দলকে সমর্থন করতে পারে বামেরা। রবিবার কোচবিহারে সিপিএমের জেলা কার্যালয়ে বামদল গুলোর নেতৃত্বদের নিয়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের তারিণী রায়, অনন্ত রায়, তমসের আলী, মহানন্দ সাহা, ফরওয়ার্ড ব্লকের পরেশ অধিকারী, দীপক সরকার, দেবাশিস বনিক, সিপিআইয়ের পার্থ সরকার ও আরএসপির তাপস সাহা। বৈঠকের পরে জেলাক বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান তারিণী রায় বলেন, “ বামফ্রন্ট জেলার সমস্ত আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বামেরা। তবে কোন আসনে প্রার্থী দিতে না পারলে বিজেপি ও তৃনমূলের সঙ্গে কোন ভাবেই যুক্ত নয়, এমন নির্দল প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

Top News

কোচবিহারে সাংগঠনিক ভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বামফ্রন্ট। ফলে বেশীর ভাগ আসনে তৃনমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। এই অবস্থায় কোচবিহার জেলা বামফ্রন্ট জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সব কতই আসনে প্রার্থী দিতে পারলেও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সর্বত্র প্রার্থী দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে বাম দলের নেতৃত্বরা মনে করছেন। এই অবস্থায় গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে দলীয় প্রতীক না থাকা আসন গুলোতে নির্দল প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর সিধান্ত নিয়েছে ওই বাম দল গুলো।

২০১৩ সালের নির্বাচনে কোচবিহারে বামফ্রন্ট জেলা পরিষদের ৬ টি আসনে জয়ী হয়। কোচবিহার ২ নম্বর, মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির দখল নেয়। পরবর্তীতে দল বদলের জেরে সব কটি পঞ্চায়েত সমিতি হাতছাড়া হয়। বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত হাত ছাড়া হওয়ার পরেও কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের খোলটা ও খাগরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এখনও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বামেরা। কিন্তু এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামেরা গত বারের ফলাফল ধরে রাখতে পারবে কিনা, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আর সেই কারনেই বামেদের নির্দল প্রার্থীর উপরে ভরসা করতে হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।