নিখোঁজ তৃণমূল যুব কর্মীর রহস্য মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য দিনহাটায়

দিনহাটা, ৮ জুলাইঃ দিনহাটার নিগমনগরে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী দেহের পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃত ওই যুবকের নাম শুভম পাল (২২)। তার বাড়ি দিনহাটার সাহেবগঞ্জ রোড এলাকায়। সে দিনহাটা ১ নং ব্লকের ভিলেজ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃনমূল যুব কংগ্রেসের অঞ্চল কমিটির সদস্য। শনিবার দিনহাটা ১ নং ব্লকের নিগমনগরের লাঙ্গলিয়া এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই যুবকের বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধার হয়। পরে তাঁর পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এদিন রাতে তাঁর সৎকারের সময় স্থানীয় তৃনমুল যুব নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই দিনহাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গণ্ডগোল চলছে, সেই গণ্ডগোলের কারনেই ওই ঘটনা কিনা, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গিয়েছে।

Top News

মৃতের পরিবারের থেকে জানা গিয়েছে, বৃস্পতিবার বাড়ি থেকে বাজার করার কথা বলে বেরিয়ে ছিলেন শুভম। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর তাঁর বাবা সুকুমার পাল দিনহাটা থানায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর শনিবার নিগমনগর এলাকায় একটি পুকুর থেকে তার বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রথম দিকে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে তাঁর পরিচয় প্রকাশ্যে আসে। আর তারপরেই ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে ভিলেজ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃনমূল যুব কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি বাপি রহমান অভিযোগ করে বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃনমুল যুব সমর্থিত নির্দল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন শুভম। এর জন্য তাকে একাধিকবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শুভম তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অন্ধ ভক্ত ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগ মুহূর্তে সে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য বিভিন্ন জায়গাতে মিটিং মিছিল করেছিলেন। তার এই অকাল মৃতুতে আমরা খুবই মর্মাহত। পুলিশ প্রশাসন এর সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।”

কোচবিহার জেলা তৃনমুল যুব কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক নিশীথ প্রামানিককে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। ওর পরিবারের লোকজনকে সমবেদনা জানাই।”

সাহেবগঞ্জ থানার আইসি হেমন্ত কুমার শর্মা জানান, “ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জলে থাকায় দেহটি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোনও কিছু বলা যাচ্ছে না।”