কালই বৈঠকে মমতা, পরাজয়ের জেরে কোপ পড়তে পারে রবি-সৌরভদের উপর

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ আগামী কালই দলের ৪২ কেন্দ্রের প্রার্থী ও জেলা সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে পরাজিত ২০ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা জেলা সভাপতিদের অনেকেরই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।

Top News

এবার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে। উত্তরবঙ্গের ৮ টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৭ টিতে বিজেপি ও ১ টিতে কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। এরমধ্যে বেশ কিছু কেন্দ্রে প্রার্থীরা সেভাবে প্রভাবশালী নয়, এমন বেশ কিছু আসনে জেলা সভাপতিদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন দলনেত্রী। আর সেই কাজে উত্তরবঙ্গের তৃণমূল নেতৃত্ব যে সফল হতে পারেন নি, তা গতকালই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর তাই ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেত্রী দলের ওই ব্যর্থ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।

এমন নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এবার নির্বাচনে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের পার্থ প্রতিম রায়কে সরিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে সদ্য আসা পরেশ চন্দ্র অধিকারীকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নব্য তৃণমূল ওই প্রার্থীকে জেতানোর ভার পড়েছিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের উপড়ে। প্রার্থীকে জেতাতে জোর লড়াইও করেছেন তিনি। কিন্তু দলের একাংশের ধারণা হয় পার্থ প্রতিম রায়ের প্রার্থী না হতে পারার জন্য দলের জেলা সভাপতি দায়ি।

এর জেরে কোচবিহারে নির্বাচনের প্রচারে সংঘবদ্ধ তৃণমূলকে পাওয়া যায় নি। ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের পর এখন অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলার অনেক নেতৃত্ব। খোদ রবীন্দ্রনাথ বাবু ফল ঘোষণার একদিন আগে ফেসবুকে দলের ভিতরে থাকা গদ্দারদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে একটি পোষ্ট দিয়ে সেই অন্তর্ঘাতের কথা কার্যত স্বীকারও করে নিয়েছেন। আগামী কালের বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী সেই ফেসবুক পোস্টের বক্তব্যের মত গদ্দারদের চিহ্নিত করে সাজা ঘোষণা করেন, না দায়িত্ব পাওয়ার পর সকলকে নিয়ে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে না পারার জন্য জেলা সভাপতিকেই কাঠগড়ায় দাঁর করান, সেটাই এখন দেখার।

কোচবিহার ছাড়াও আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক তথা শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী, পর্যটন মন্ত্রী গৌতমদেব ও দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের উপড়েও কোপ পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।