রাসমেলা মাঠে টোটো চালকদের তৃণমূলে যোগ, অনেকে গেলেন বিজেপি অফিসে

চন্দন দাস, কোচবিহার: জমে উঠেছে কোচবিহারের টোটো রাজনীতি। রবিবার কোচবিহার রাসমেলা মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে টোটো চালকদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক মিহির গোস্বামী, ছাত্রনেতা অভিজিৎ দে ভৌমিক ও তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়ানের নেতৃত্ব। এদিন ওই সভা মঞ্চে টোটো চালকরা তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। তাদের অনেকের দাবি, “বিজেপি থেকে তাদের ভুল বুঝিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের ভুল ভেঙে যাওয়ায় তারা আবার তৃণমূলে ফিরে এসেছেন।” তাদের দাবি, এদিন প্রায় ১ হাজার টোটো চালক তৃণমূলে যোগ দিলেন। তারা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গেই থাকবেন বলেও জানান। তারা আগের মতই থাকবেন বলে বিধায়ক মিহির গোস্বামী তাদের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি।

Top News

অন্যদিকে জেলা বিজেপি নেতৃত্বর দাবি, তারা কোন টোটো চালককে তাদের সঙ্গে আলচনার জন্য ডাকেনি। টোটো চালকরা নিজের ইচ্ছায় তাদের কাছে গিয়েছিল। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আজ দুপুর বারোটায় টোটো সমস্যা সমাধানে প্রশাসন কি ব্যবস্থা গ্রহণ করল তা জানতে টোটো চালকদের নিয়ে বিজেপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আশ্চর্য ভাবে একই সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সভা করা হল। তৃণমূলের সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য এদিন অনেক টোটো চালককে জোরাজুরি করা হয় বলেও বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি এরপরেও এদিন কিছু টোটো চালক নিজের ইচ্ছায় তাদের কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অবিলম্বে টোটো চালকদের বৈধ কাগজ পত্র দিতে হবে। অনেকেই লোন নিয়ে টোটো কিনেছেন। তারা যাতে লোন শোধ করতে পারে তার জন্য অন্তত দুই বছর সময় দিতে হবে।

টোটো চালক শ্যাম চরণ শীল বলেন, “আমি একজন সাধারণ টোটো চালক। আমরা নিজের ইচ্ছায় বিজেপির এখানে এসেছি। আমরা পেটের তাগিদে প্রথমে তৃণমূলের কাছে গিয়েছিলাম। শহরের টোটোর জন্য টিন নম্বরের ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। তাহলে আমরা গ্রামের টোটো চালকদের কি হবে। এরপর আমরা বিজেপির কাছে আসি। তারা আমাদের বলে গ্রাম শহরের বিষয় নেই। তারা আমাদের পাশে থাকবে। আমাদের হয়ে কেস লড়তে হলে বিজেপি লড়বে বলে জানায়। এরপর আমরা তাদের সঙ্গে আছি। বিজেপি আমাদের টেনে-ধরে আনেনি। যদি বিজেপি কন্দিন আমাদের উলটো পাল্টা বলে সেদিন বিজেপি থেকে সরে যাব।”