পদত্যাগ করলেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের প্রধান ও সহকারি অধ্যাপক

শিলিগুড়ি, ১৪ জুনঃ পদত্যাগ করলেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের প্রধান ডক্টর নির্মল বেরা ও মনোরোগ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডক্টর উত্তম মজুমদার। প্রশাসনিক অসহযোগিতা, যার কারনে চিকিত্সা করা সম্ভব নয়। এই কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন তাঁরা।

Top News

অন্যদিকে, ইস্তফা দিয়েছেন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপার। এনআরএসে এগ রোগীর মৃত্যু ও চিকিৎসকদের নিগ্রহের` ঘটনার পর থেকে অচলাবস্থা চলছে হাসপাতালে। এর মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন এনআরএসের অধ্যক্ষ শৈবাল মুখোপাধ্যায়ের ও সুপার সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। আজ স্বাস্থ্যভবনে ই-মেল করে ইস্তফা দিয়েছেন দু’জন। যদিও তা এখনও পর্যন্ত গৃহিত হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনায় গর্জে উঠেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। একাধিক দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এনআরএসের ঘটনার আঁচ ইতিমধ্যে কলকাতা সহ গোটা রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় লাটে উঠেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। গত তিনদিন ধরে চলছে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি। এই অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার এসএসকেএম যান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ১২টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসকেএমে ঢুকে কার্যত আন্দোলনরত ডাক্তারদের কার্যত হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, চার ঘন্টার মধ্যে কাজ যোগ না দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি জুনিয়র ডাক্তারদের বহিরাগত তকমা দিয়ে হোস্টেল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে ডাক্তাদের মধ্যে ‘বিদ্রোহে’র আগুন জ্বলে উঠেছে।

গণহারে ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাক্তাররা। এক্ষেত্রে জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররা। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারির পরেই জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এসএসকেএমের নার্সরাও। দ্রুত অবস্থা স্বাভাবিক করতে ইতিমধ্যে নবান্নে জরুরি বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা আর এই বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিয়েই মূলত আলোচনা করতে জরুরি এই বৈঠকের ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে হাজির ছিলেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবসহ অন্যান্য আধিকারিকরা৷ অন্যদিকে তাঁর এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত কাজে ফেরেননি জুনিয়র ডাক্তাররা।