ফের উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৪ ঘণ্টায় ১৫ রোগীর মৃত্যু

শিলিগুড়ি, ১৩ জুনঃ ফের উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৪ ঘণ্টায় ১৫ রোগীর মৃত্যু বলে দাবি করা হয়েছে যার জেরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে । রোগীর পরিজনেরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন  হাসপাতাল সুপারের ঘরের সামনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশবাহিনি মতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে বচসার জেরে ধস্তাধস্থিও শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। এনআরএস-কাণ্ডের জের। বুধবার  থেকেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। চিকিত্সা-পরিষেবা বন্ধ থাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বৃহস্পতিবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

Top News

প্রসঙ্গত, নীলরতন সরকার হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনার প্রতিবাদে গত দু’দিন ধরে কর্মবিরতি শুরু করেছে রাজ্যের জুনিয়র ডাক্তাররা। ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার মাঠে নামেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ডাক্তারদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসা না পাওয়া রোগী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর এসএসকেএম থেকে বাইরে বেরোবার পথে মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকেরা।

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অবিলম্বে পরিষেবা শুরু না করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার। চার ঘণ্টার মধ্যে জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানান, ইতমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ জনকে। তাই রাজনৈতিক পথে আন্দোলন না করে কাজে যোগ দিন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কর্মী কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলে পুলিশ কর্মবিরতি করে না। সরকার আইনত ব্যবস্থা নেয়। এক্ষেত্রেও সরকার ব্যবস্থা নেবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “৪ দিন ধরে রোগী পড়ে আছে। কয়েকজন মিলে তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমার মন্ত্রী গিয়েছেন, পুলিশ কমিশনার গিয়েছেন। যাঁরা নাটক করছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা নেব”। এদিন তিনি দাবি করে বলেন, “যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা কেউ জুনিয়র ডাক্তার নয়। তাঁরা আউটসাইডার। বিজেপি-সিপিআইএম উসকানি দিচ্ছে”।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সরকারি খরচায় গুরুত্বর অসুস্থ রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠাচ্ছি। ওখানে সিনিয়র চিকিৎসকরা কাজ করছেন ওদের অনুরোধ করব ওঁরা যাতে বেশি সময় দিয়ে কাজ করেন। রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া সবচেয়ে জরুরি বিষয়।”