পাক- বর্ষাতেই নাজেহাল অবস্থা, বিঘ্নিত স্কুলের পঠন- পাঠন, চিন্তায় স্কুল পড়ুয়ারা

তুষার কান্তি বিশ্বাস, উত্তর দিনাজপুরঃ বৃষ্টি হলে কার্যত ডোবায় পরিনত হয় স্কুলের সামনের রাস্তা। এমনকি ক্লাস রুমেও কাঁদা জল ঢুকে যাওয়ায় বিঘ্নিত হয় পঠন পাঠন। স্কুল যাবার রাস্তায় হাটু জল তার সাথে থাকে কাঁদা। এর ফলে স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র ছাত্রী দের স্কুলে আসতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে৷ স্কুলের শ্রেনী কক্ষ ছেড়ে পড়াশুনা হচ্ছে এখন স্কুলের ছাদে। সামনে বর্ষা ফলে চরম দূর্ভোগের আশঙ্কায় শিক্ষক সহ ছাত্র ছাত্রীরা। বৃষ্টির জল জমে থাকার কারনে স্কুলের পঠন পাঠন ব্যাহত হচ্ছে । উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের গোটলু অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় এমন অবস্থা। ইটাহার  গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া গোটলু মোর থেকে প্রায় ১ কিমি রাস্তা বেহাল। এই রাস্তা আলগ্রাম, খামরুয়া, বনকুর যাবার মূল রাস্তা। আশেপাশের ছয় সাতটি গ্রামের প্রায় কয়েকশো লোকের নীত্যদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত। আর রাস্তার মাঝে পড়ে গোটলু প্রাথমিক বিদ্যালয়। বৃষ্টি হলেই স্কুল সহ স্কুলের সামনে জমে যায় ১ হাটু জল।

Top News

পাশাপশি এলাকার মানুষরাও একই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। গাড়ি তো দূরের কথা পাঁয়ে হেঁটে ও যাতায়াত করা দুঃসাদ্ধ হয়ে পড়েছে গ্রামবাসীদের। গ্রামবাসী সহ স্কুল কর্তৃপক্ষ বারংবার এলাকার প্রধান ও মেম্বার দের জানিয়েও লাভ হয় নি। এই বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিক্রম সরকার জানায়, “গোটলু মোর থেকে স্কুল পর্যুন্ত রাস্তা বেহাল। বৃষ্টি হলে হাঁটু জল কাঁদা জমে যায় রাস্তার উপরে। জীবনের ঝুকি নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। এমনকি ক্লাস রুমেও কাঁদা জল ঢুকে যায়। ফলে পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে। ক্লাসে পড়ানো যাচ্ছে না। স্কুলের ছাঁদে নিতে হচ্ছে ক্লাস। বর্ষা না আসতে এই পরিস্থিতি বর্ষা আসলে কি হবে এই প্রশ্নই এখন স্কুলের পড়ুয়াদের থেকে শুরু করে শিক্ষকদের মনে উঠতে শুরু করেছে। আজকে ছবি তুলে ডি আই অফিসে জানিয়েছি। স্থানীয়   জনপ্রতিনিধি ও প্রধানকেও জানানো হয়েছে। আমাদের পাশাপাশি এলাকার মানুষরাও খুব অসুবিধার মধ্যে যাতায়াত করছেন এই রাস্তা দিয়ে।”

এই বিষয়ে স্কুলের এক ছাত্র জানায়, আমাদের স্কুলে বৃষ্টি হলে জল জমে যায়। আমরা স্কুলে আসতে পারছি না। ঠিক মত পড়াশুনা করতে পারছি না।

অন্যদিকে এলাকার বাসিন্দা ইসরাফুল হক জানায়, ‘এই রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটেও চলাচল করা যাচ্ছে না। রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে কেউ কেউ পরে অহত হচ্ছে। কেউ অসুস্থ্য হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার মধ্যে আমাদের গ্রামের এই প্রাথমিক স্কুলে জল ঢুকে যাচ্ছে। ফলে ছেলে মেয়ে দের পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় এক হাঁটু জল জমে যাচ্ছে। এলাকার মেম্বার ও প্রধানকে জানিয়েছি কাজ হচ্ছে না।’

ইটাহার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অশোক বর্মন জানান, আমাদের নজরে আছে গোটলুর রাস্তা টার কথা। ইতি মধ্যে প্রাথমিক ভাবে রাস্তা সারাবার জন্য টেন্ডার হয়েছে। বর্ষার আগেই এলাকার মানুষ সহ স্কুলের সমস্যা সমাধান করে দেওয়া হবে।

তবে কত দিনে এই রাস্তার সমস্যা সমাধান হচ্ছে সেই দিকে তাকিয়ে এলাকার মানুষ সহ স্কুল কর্তৃপক্ষ।